রূপনগরে ডাকাতির ছয় পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও গাড়ি জব্দ

রাজধানীর রূপনগর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় দেশীয় অস্ত্র ও প্রাইভেট কারসহ ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে রূপনগর থানা পুলিশের তৎপর অভিযান মাধ্যমে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া পাঁচটার দিকে থানা-পুলিশের একটি টহল দল তাদের আটক করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের রবিবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত টহলকালে পুলিশের নজরে আসে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেট কার। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় ভেতর থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড হারভেস্ট মাল্টিফাংশনাল আউটডোর ছুরি এবং কাঠের বাঁটযুক্ত ছুরি।

গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন:

নামবয়সমন্তব্য
তামিম ওরফে নাজমুল ইসলাম২০ডাকাতির প্রস্তুতিতে মূল সদস্য
মো. রাসেল হোসেন৩২গাড়ির চালক হিসেবে সন্দেহ
গোলাম রাব্বী১৯সহকারী সদস্য
ইয়াসিন বাবু২০ডাকাতি পরিকল্পনায় যুক্ত
মো. জুয়েল২৬পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ
মো. রুবেল হোসেন৩৫অভিজ্ঞ সদস্য, অপরাধে প্রবল যোগ

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কথাবার্তা প্রাথমিকভাবে অসংলগ্ন হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির প্রস্তুতির কথা স্বীকার করে। পুলিশ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে। গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখার পাশাপাশি তদন্ত চলছে, যাতে তাদের ডাকাতি পরিকল্পনা এবং অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করা যায়।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, একই দিনে আরেকটি পৃথক অভিযানে মো. সাব্বির (১৮) নামে এক ব্যক্তিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাব্বির বিভিন্ন ছোটখাটো চুরি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা রোধ করতে রূপনগর থানার টহল কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ জানিয়ে দিচ্ছে, অচেনা গাড়ি বা সন্দেহজনক ব্যক্তি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “গ্রেপ্তার অভিযানের মাধ্যমে নগরীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি প্রতিদিনই নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল চালাচ্ছে যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”

এই অভিযানের মাধ্যমে রূপনগর এলাকার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ আশা করছে, এই ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে রাজধানীর অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।