যুক্তরাষ্ট্রে নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা রাজ্যে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীকে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা পূর্বে শুধুমাত্র প্রতিবেশী আলাবামায় ব্যবহৃত হত। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে নির্যাতনের মতো একটি প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এএফপি সূত্রে ওয়াশিংটন থেকে এই খবর জানানো হয়েছে।

১৯৯৬ সালে মেরি ’মলি’ এলিয়টকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ৪৬ বছর বয়সী জেসি হফম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা ১৫ বছরের বিরতির পর লুইসিয়ানায় প্রথম ঘটনা।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হফম্যানের দুই আইনজীবী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে রাজ্য কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এটি নিশ্চিত করেনি।

আইনজীবী সেসেলিয়া ক্যাপেল জানিয়েছেন, “রাষ্ট্র একটি নতুন প্রোটোকল জারি করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করেছে, যাতে বিচারিক পর্যালোচনার জন্য যথাযথ সতর্কতা নিশ্চিত করা যায় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা যায়।”

এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরো তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বুধবার অ্যারিজোনায় এবং দুটি বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা এবং ওকলাহোমাতে কার্যকর করা হবে। তিনটিই প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। বছরের শুরু থেকে আরও ছয়টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে আলাবামায় নাইট্রোজেন ইনহেলেশনের মাধ্যমে একটি এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে একটি মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ছিল। বাকি সবগুলো প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

হফম্যানের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনও সফলতা পাওয়া যায়নি।

২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ সালে আলাবামায় কেনেথ স্মিথের মৃত্যুদণ্ড ছিল বিশ্বের প্রথম নাইট্রোজেন ইনহেলেশনের মাধ্যমে, যা অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এরপর থেকে রাজ্যে আরো তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ২৩টি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে, এবং আরও ছয়টি রাজ্যে (অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ওহিও, ওরেগন, পেনসিলভানিয়া এবং টেনেসি) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে।