রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষ যুদ্ধবন্দি ও নিহত সৈন্যদের মরদেহ বিনিময়ে আংশিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা ‘তাস’।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা অবিলম্বে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথে অন্তত ৩০ দিনের জন্য পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়। তবে রাশিয়া সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
রুশ প্রতিনিধি দলের দাবি, তারা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দুই থেকে তিন দিনের স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে অসুস্থ, গুরুতর আহত ও ২৫ বছরের কম বয়সী যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়ের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ ১২ হাজার সৈন্যের মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আলোচক দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ জানান, ইউক্রেন কয়েকদিন আগেই রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে মস্কো সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে আলোচনার মঞ্চে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাস’ জানিয়েছে, মস্কো দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের চারটি দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে মস্কো ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে।
