রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত ও বনাঞ্চলঘেরা এলাকায় বৃহস্পতিবার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে মোট ৫০ জন আরোহী ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কারও বেঁচে থাকার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আঙ্গারা এয়ারলাইন্স পরিচালিত আন্তোনভ-২৪ মডেলের বিমানটি ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে টিন্ডা শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
কী ঘটেছিল:
বিমানটি ছিল জোড়া প্রোপেলারবিশিষ্ট আন্তোনভ-২৪, নির্মিত প্রায় ৫০ বছর আগে।
এটি রাডার থেকে অদৃশ্য হওয়ার পর, উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার টিন্ডা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলময় পাহাড়ি ঢালে বিমানটির জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়।
হেলিকপ্টারে থাকা উদ্ধারকারীরা বিমানটির আরোহীদের কারও জীবিত থাকার প্রমাণ পাননি।
আরোহীদের পরিচয় ও উদ্ধারের অবস্থা:
| উপাদান | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট আরোহী | ৫০ জন |
| যাত্রী | ৪৩ জন |
| ক্রু সদস্য | ৬ জন |
| শিশু যাত্রী | ৫ জন |
আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ নিশ্চিত করেন যাত্রীদের মধ্যে পাঁচ জন শিশু ছিলেন।
উদ্ধারকাজে বর্তমানে ২৫ জন কর্মী ও পাঁচটি সরঞ্জাম ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং চারটি অতিরিক্ত বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
একজন উদ্ধারকারী তাস বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, দুর্গম বনাঞ্চল হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে গুরুতর প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিমানটির অবস্থা ও পটভূমি:
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, বিমানটি প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত।
২০২১ সালে বিমানটির ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
রাশিয়া গত কয়েক বছরে সোভিয়েত আমলের পুরনো বিমান বাদ দিয়ে আধুনিক জেটবিমান ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হলেও, দূরবর্তী অঞ্চলে পুরনো হালকা বিমান এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এই দুর্ঘটনা আবারও রাশিয়ার পুরনো বিমান ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
