ঢাকার বাংলামোটর এলাকা শুক্রবার রাত আটটার দিকে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাজ রিপার সঙ্গে এক ধ্বংসাত্মক ঘটনার সাক্ষী হয়। তিনি জানান, পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী তার পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে উপহার দেওয়া স্মারক ফোনটি ছিনতাই হয়েছে। এই ফোন তার কাছে শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অভিনয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির প্রতীক।
জাতীয় ব্যাডমিন্টন দলের প্রাক্তন সদস্য রাজ রিপা খুলনা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। ব্যাডমিন্টন থেকে চলচ্চিত্রে পেশা পরিবর্তন করে তিনি ‘দহন’ এবং ২০২১ সালের ‘মুক্তি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। মুক্তি ছবির শুটিং চলাকালীন রাজ রিপার অভিনয়ে সন্তুষ্ট হয়ে পরিচালক তাকে ফোনটি উপহার দেন। রাজ রিপা বলেছেন, “এই ফোনে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত। আমি স্টান্ট ব্যবহার না করেই অ্যাকশন দৃশ্যে অংশ নিয়েছি, সেই সময় পরিচালক খুশি হয়ে আমাকে এটি উপহার দিয়েছেন। এটি হারানোর পর আমি মানসিকভাবে ভীষণভাবে প্রভাবিত।”
ফোন হারানোর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, “আমি বনানী থেকে পূর্বাণী হোটেলে যাচ্ছিলাম। গাড়ির এসি খারাপ হওয়ায় জানালা সামান্য খোলা ছিল। মোবাইলে কথা বলার সময় ছিনতাইকারী মুহূর্তের মধ্যে ফোনটি নিয়ে দৌড় দেয়। চিৎকার করলেও কাউকে তাকে ধরতে সাহায্য করতে পারেনি।”
রাজ রিপা ইতোমধ্যে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং ফোন ফিরে পাওয়ার আশায় আছেন। চলচ্চিত্রের দিকে তাকালে, তাকে সর্বশেষ ‘ময়না’ ছবিতে দেখা গেছে। তবে নতুন প্রজেক্টে তার অভিনয় শোনা গেলেও তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ত এলাকায় পরিচিত বা অমূল্য জিনিস হারানো সাধারণ ঘটনা হলেও এটি ব্যক্তি ও তার পেশাগত জীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। রাজ রিপার ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির নয়, বরং স্মৃতিচারণার সঙ্গে জড়িত আবেগের ঘাটতির প্রতীক। চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনায় সচেতনতা অপরিহার্য।
রাজ রিপার অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে কোনো মূল্যবান বস্তু শুধুমাত্র উপহার নয়, তা ব্যক্তিগত ইতিহাস ও অনুভূতির সঙ্গে জড়িত থাকে। এই ধরনের ঘটনার ফলে একজন মানুষের মনোবল এবং পেশাগত মনোভাবও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
