রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সোমবার বিকেলে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন। আমাদের সরকারে আসলে রাজবাড়ীতে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও ভাগ্য অনন্যভাবে পরিবর্তিত হবে।”
পথসভায় সভাপতিত্বের আগে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং রাজবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বর্ণিল মিছিলের মাধ্যমে রেলওয়ে মাঠে যোগ দেন। মিছিলে স্থানীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণও ব্যাপক অংশগ্রহণ করেন, যা ভোটারদের উৎসাহ এবং রাজনৈতিক উদ্দীপনার পরিচায়ক হিসেবে ধরা হয়।
বক্তব্যে আলী নেওয়াজ অভিযোগ করেন, “একটি দল নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভোটারদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করেছে।” তিনি নিজের চরিত্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, “আমি আপনাদের লোক। জীবনে কখনও খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত হইনি। একদিন আমরা সবাই এই পৃথিবী থেকে চলে যাব। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই জনপদের মানুষ তখনও আমার কথা মনে রাখবে। সেই বিশ্বাসে আমি মানুষের কল্যাণে সারা জীবন কাজ করে চলেছি।”
বক্তব্য শেষে নির্বাচনী গণমিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারী, সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব সহ বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
নিচের টেবিলে রাজবাড়ী-১ আসনের নির্বাচনী মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসন | রাজবাড়ী-১ |
| প্রধান প্রার্থী | আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (বিএনপি) |
| নির্বাচনী তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| প্রতীক | ধানের শীষ |
| নির্বাচনী কেন্দ্র | শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠ সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা |
| প্রধান অঙ্গসংগঠন | জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল |
| প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল | আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য স্থানীয় দল |
| নির্বাচনী ইভেন্ট | পথসভা, গণমিছিল, ইউনিয়ন ভিত্তিক মিছিল |
রাজবাড়ীর রাজনৈতিক মঞ্চ বর্তমানে উত্তপ্ত এবং ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার মাত্রা লক্ষ্যণীয়। আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালাচ্ছে, যা আগামী ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলাফলের দিকে নজর রাখতে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে শহরের প্রধান সড়ক ও ইউনিয়নগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা নির্বাচনের চিত্রকে অনন্য করে তুলছে।
