রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। একই সময়ে মহানগরের বিভিন্ন থানায় ৫৯টি মামলা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগে। সেখানে ১৩২ জনকে আটক করা হয়। এরপর ওয়ারী বিভাগে ৮০ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৫ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৪৫ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪০ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৩৪ জন এবং লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক অভিযানে আরও ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানও চালানো হয়। এসব অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজা, ১২ হাজার ৩৭৫টি ইয়াবা, দুই পুরিয়া হেরোইন এবং পাঁচ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানের পরিধি ও পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।
মাদকদ্রব্যের বাইরে অভিযানে আরও বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৪৮০টি নকল ক্রিম, ১১টি মোবাইল ফোন, ৫২৬ বস্তা চাল, দুটি চাকু, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির রিমোট চাবি। এসব সামগ্রী কোন কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কোন ঘটনায় সেগুলো জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশেষ অভিযানের সময় অপহরণের শিকার দুই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এসব তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকানো, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ ধরনের অভিযানে একাধিক ইউনিট একসঙ্গে কাজ করায় স্বল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
পুলিশের হিসাবে, শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যাই নয়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবার মতো মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও বিক্রয়চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে নকল পণ্য, চাল ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাগুলোও সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন সম্পর্কে তদন্তকারীদের অতিরিক্ত সূত্র দিতে পারে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা মাদক, যানবাহন, অস্ত্রসদৃশ সামগ্রী, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য বস্তু মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাবে না। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।









