মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি আগামী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাখাইন রাজ্যের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গোষ্ঠীর ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রধান জেনারেল তুয়ান ম্রাত নাইং এই ঘোষণা প্রদান করেন।
তিনি জানান, তারা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের দিকে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অন্যান্য মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে লড়াই অব্যাহত রাখবেন।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যের মোট ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে। পাশাপাশি চিন রাজ্যের পালেতওয়া এলাকাও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে এখনো রাজধানী সিত্তওয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং শহর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনীর দখলে রয়েছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মি ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের মাধ্যমে তারা একাধিক এলাকা দখলে নিতে সক্ষম হয়। সামরিক অগ্রগতির পাশাপাশি তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব কাঠামোর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব প্রশাসনিক দপ্তর, আদালত ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।
তবে একই সময়ে জান্তা বাহিনীর বিমান ও নৌ হামলার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে।
আরাকান আর্মির এই সামরিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অন্যান্য সদস্য এবং মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারসহ চল্লিশটিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের প্রতি সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এসব গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরাকান আর্মির এই অগ্রগতি মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরাকান আর্মির ইতিহাস অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মাত্র ২৬ জন সদস্য এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কাচিন রাজ্যের লাইজায় তাদের যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এবং বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান সশস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নিচে বর্তমান নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি সারণি
| অঞ্চল | বর্তমান নিয়ন্ত্রণ | অবস্থা |
|---|---|---|
| রাখাইন রাজ্যের ১৭টি উপজেলা | ১৪টি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে | অধিকাংশ গ্রামীণ ও উপজেলা এলাকা দখল |
| পালেতওয়া (চিন রাজ্য) | আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে | সীমান্তবর্তী এলাকা |
| সিত্তওয়ে | জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে | রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র |
| কিয়াকফিউ | জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে | গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সমুদ্র বন্দর এলাকা |
| মানাউং | জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে | আংশিক কৌশলগত এলাকা |
- বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইন রাজ্যের বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত অঞ্চলগুলো এখনো জান্তা বাহিনীর অধীনে রয়েছে। এই বাস্তবতা দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘাতের জটিলতা ও বিস্তৃতি নির্দেশ করে।
