রমজানের প্রথম শুক্রবারে ছুটি এবং ইফতার মাহফিলের বাড়তি চাহিদার প্রভাবে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস এবং কিছু মধ্যম মানের মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২০–৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু সবজি ও ফলের দামও পরিবর্তিত হয়েছে। কুমড়া প্রতি কেজি ১৬ থেকে ২০ টাকা, মুলা ১২ থেকে ২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও শশার দাম ৭০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। লেবু প্রতি হালি ৮০–১২০ টাকা, আর পেঁয়াজ কেজিতে ৪০ টাকায় নেমেছে।
মাছ, মাংস ও ডিমের বর্তমান বাজারদাম
| পণ্য | বর্তমান দাম (টাকা) | আগের সপ্তাহের দাম (টাকা) | পার্থক্য (টাকা) |
|---|---|---|---|
| সোনালি মুরগি | ৩০০–৩৪০ | ২৭০–২৮০ | +৩০–৬০ |
| ব্রয়লার মুরগি | ২০০–২১০ | ১৮০ | +২০–৩০ |
| লাল লেয়ার মুরগি | ৩৩০ | ৩০০ | +৩০ |
| দেশি মুরগি | ৭৫০ | ৭২০ | +৩০ |
| গরুর মাংস | ৮০০–৮৫০ | ৭৫০–৭৮০ | +৫০ |
| খাসি মাংস | ১২০০ | ১২০০ | ০ |
| রুই মাছ | ৩৫০–৪২০ | ৩৬০ | +৩০–৬০ |
| কাতলা মাছ | ৩৮০–৪৫০ | ৩৭০ | +১০–৮০ |
| পাঙ্গাস | ২০০–২২০ | ২০০ | +২০ |
| তেলাপিয়া | ২২৫–২৫০ | ২২০ | +৫–৩০ |
| ইলিশ | ১২০০–২৫০০ | ১২০০–২৪০০ | +০–১০০ |
| শিং মাছ | ৫০০–৬০০ | ৫০০ | +০–১০০ |
| মাগুর | ৫৫০–৬৫০ | ৫০০ | +৫০–১৫০ |
| চিংড়ি | ৮০০–১২০০ | ৭৫০–১১০০ | +৫০–১০০ |
| ডিম (প্রতি ডজন) | ১১০ | ১১০ | ০ |
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রমজান এবং ইফতার মাহফিলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে চাপ বেড়েছে। রামপুরা কাঁচাবাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী রাসেল বলেন, “রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরও এক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহে যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
বনশ্রী এলাকার গৃহিণী রহিমা আরও জানান, “রোজার জন্য মাংসের প্রয়োজন বেশি, কিন্তু বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়েছে। আয় তো বাড়ছে না, খরচ প্রতি সপ্তাহে বেড়েছে।”
খিলক্ষেতের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “নদীর দেশি মাছ কম, বেশিরভাগই চাষের। পরিবহণ ও বরফ খরচ মিলিয়ে পাইকারি বাজারে দাম বেশি। আমরা বেশি লাভ রাখি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় দাম বাড়তে বাধ্য।”
বাজার পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, রমজানের পুরো মাসজুড়ে এই ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রবণতা ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে, যা ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
