মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালথাম ফরেস্টের কুইন্স রোডের বাসিন্দা রবিন দাসের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই ধর্ষণের দুটি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ ব্রিক্সটনে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট নারীকে পুলিশের বিশেষায়িত কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন বলেও জানানো হয়েছে।
মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। রবিন দাসের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি অভিযোগে চার্জ গঠন হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। আগামী ৯ অক্টোবরের হাজিরা মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাই আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
শেষ ম্যাচের দুই দিন পর চার্জ
রবিন দাসের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সময়টি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। ২১ জুলাই এসেক্সের হয়ে মিডলসেক্সের বিপক্ষে মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপের ম্যাচটিই ছিল ২০২৬ মৌসুমে তার একমাত্র সিনিয়র উপস্থিতি। র্যাডলেটের ম্যাচটিতে এসেক্স প্রথমে বোলিং করে। পরে রান তাড়ায় রবিন দাস ওপেন করতে নেমে ২৫ বলে ২৯ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার। নোয়া কর্নওয়েলের বলে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এবং এসেক্স শেষ পর্যন্ত ৪১ রানে হেরে যায়।
এর মাত্র দুই দিন পর, ২৩ জুলাই, তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়। এরপর থেকে এসেক্সের হয়ে আর মাঠে নামেননি তিনি। ক্লাব জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় তাকে তাৎক্ষণিক ও চলমানভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের চুক্তিবদ্ধ একজন খেলোয়াড় ক্লাবের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে ঘটে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয়ে আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্লাবটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB), পেশাদার ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (PCA), ক্রিকেট রেগুলেটর এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে ক্লাব।
এসেক্সে রবিন দাসের ক্রিকেট ক্যারিয়ার
রবিন জেমস দাসের জন্ম ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের লেটনস্টোনে। এসেক্সের একাডেমি ও দ্বিতীয় একাদশের পথ পেরিয়ে তিনি মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০২০ সালে ১৮ বছর বয়সে সাসেক্স শার্কসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে এসেক্সের হয়ে অভিষেক হয় তার। ক্লাবের প্রোফাইলে তাকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রবিনের অভিষেক হয় ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচেই তিনি ১১৮ বলে ১৩২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। ২০২৫ মৌসুম শেষ হওয়ার সময় এসেক্সের হয়ে তার প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ছিল নয়টি, যেখানে মোট রান ৩২৭।
সাদা বলের ক্রিকেটেও তার উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স রয়েছে। এসেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে তার রান ৭৭৬। ২০২৪ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে সাত উইকেটের জয়ে তিনি অপরাজিত ১০০ রান করেন, যা ওই সংস্করণে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। টি-টোয়েন্টিতে ২২ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৩৪১ রান; সর্বোচ্চ ৭২।
তবে ২০২৬ সালের ২১ জুলাইয়ের মিডলসেক্স ম্যাচসহ সাম্প্রতিক হিসাবের কিছু সূত্রে এসেক্সের হয়ে তার মোট উপস্থিতি ৬০ ছাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিন সংস্করণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার চিত্রটি স্পষ্ট হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক ও ক্রিকেটীয় যোগ
রবিন দাসের ক্রিকেট পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গেও রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক। তার বাবা মৃদুল কান্তি দাস বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। রবিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও বাবার সূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে তার পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে।
এই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারেও। ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে খেলেন। এসেক্সও তার প্রোফাইলে বাংলাদেশে খেলার বিষয়টিকে তার বাংলাদেশি ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে ২০২২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচে বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমেও আলোচনায় এসেছিলেন রবিন। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটারের জন্য ঘটনাটি ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা।
এখন অবশ্য তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আদালতের মামলাটিই সামনে এসেছে। আগামী ৯ অক্টোবর ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে তার হাজিরার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই; আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।









