দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পুনরায় চালু করেছে। দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই স্কিম পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন পাবে, যা রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চালু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি ৫০ বিলিয়ন টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি গত বছরের ১২ এপ্রিল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। স্কিমটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্যবসায়ী নেতারা পুনরায় এটি চালুর দাবি জানান। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা রপ্তানি সহায়তার স্বার্থে তহবিলটি পুনরায় চালুর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেন। তাদের আবেদনের পর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন ঘোষণার আওতায় স্কিমটির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এটি একটি আবর্তনশীল তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। রপ্তানি সহায়তা প্রাক-অর্থায়ন তহবিল থেকে ৫০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করে পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে “আগে এলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ করা হবে।
এই স্কিমের আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একক সময়ে সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ করতে পারবে না। এতে তহবিলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকরাও সমানভাবে উপকৃত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ জোরদার করার মাধ্যমে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।
নিচে স্কিমটির প্রধান বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্কিমের নাম | প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম |
| বাস্তবায়নকারী সংস্থা | বাংলাদেশ ব্যাংক |
| প্রথম চালু | ২০২০ সাল |
| পুনরায় চালু | সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী |
| মোট তহবিলের পরিমাণ | ৫০ বিলিয়ন টাকা |
| অর্থের উৎস | রপ্তানি সহায়তা প্রাক-অর্থায়ন তহবিল |
| স্কিমের ধরন | আবর্তনশীল তহবিল |
| বর্তমান মেয়াদ | ২০৩০ সাল পর্যন্ত |
| ঋণ বিতরণ পদ্ধতি | আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে |
| অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান | তফসিলি ব্যাংকসমূহ |
| সর্বোচ্চ ঋণসীমা | একক প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর জন্য ২ বিলিয়ন টাকা |
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিম দেশের রপ্তানি খাতকে নতুন গতি দেবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।
