যশোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতটি ককটেল, তিনটি পেট্রোল বোমা এবং কিছু ধারালো অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আল মাসুদ রানাকে আটক করেছে। অভিযান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় যশোর কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ শহরের রায়পাড়া এলাকায় পরিচালনা করে।
আটককৃত আল মাসুদ রানা শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া রাজা বরদাকান্ত রোড এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি কাজী বাবুল হোসেন জানান, ভোরে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রানার বাড়িতে বোমা ও অস্ত্র রাখা আছে। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, রানার বাড়ির উঠানের পাশে রান্নাঘরের পেছনের অংশ থেকে সাতটি ককটেল, তিনটি পেট্রোল বোমা সদৃশ কাচের বোতল, একটি ছোরা এবং দুটি হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওসি বাবুল হোসেন বলেন, “এই অস্ত্র রানার কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযান চলাকালীন রানা জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছে।”
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বিকালে আল মাসুদ রানাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্থানীয় যুবদলের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যশোর নগর যুবদলের সদস্যসচিব শেখ রবিউল ইসলাম রবি বলেন, “আল মাসুদ রানাকে অস্ত্রসহ আটক করার বিষয়টি আমি শুনেছি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন। তবে আমি মনে করি তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। যুবদল কখনো সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়নি, এবং কোনো ব্যক্তিগত দায় দল নেবে না।”
পুলিশি অভিযান ও আটককৃত অস্ত্রের বিবরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানকারি থানার নাম | যশোর কোতয়ালী মডেল থানা |
| অভিযান এলাকা | রায়পাড়া, যশোর |
| আটককৃত | আল মাসুদ রানা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ৭টি ককটেল, ৩টি পেট্রোল বোমা সদৃশ কাচের বোতল, ১টি ছোরা, ২টি হাঁসুয়া |
| অভিযান সময় | ২৫ নভেম্বর, সকাল ৬:৩০ |
| মামলা ও আদালত | মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে; বিকালে আদালতে সোপর্দ |
| যুবদলের প্রতিক্রিয়া | অভিযোগ যে তিনি ষড়যন্ত্রে ফাঁসানো হয়েছেন; দল সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় না |
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, যশোরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন অভিযান সচরাচর হয়ে থাকে এবং এটি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই এমন ঘটনায় ফাঁসানোর অভিযোগও তুলেন।
