মোহাম্মদ খালেদ (৬ জুলাই ১৯২২ – ২১ ডিসেম্বর ২০০৩) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক যিনি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তাকে “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয়।
Table of Contents
মোহাম্মদ খালেদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
খালেদ ৬ জুলাই ১৯২২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনাতে তার পিতা আবদুল হাদী চৌধুরীর কর্মক্ষেত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের রাউজানের সুলতানপুর গ্রামের দারোগা বাড়ি। তিনি ১৯৪২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পারিবারিক কারণে সেখানে পাঠসমাপ্ত না-করে চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক সমাপ্ত করে পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাসে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
মোহাম্মদ খালেদ ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক ছিলেন। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৪৪ সালে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। তিনি ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭০ সালের তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে রাউজান-হাটহাজারী সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় পরিষদের স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র হিসাবে প্রকাশিত ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। ১৯৭২ সালে বত্রিশ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ সংবিধান কমিটির সদস্য হয়ে সংবিধান প্রণয়নে অবদান রাখেন।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন চট্টগ্রাম-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার গভর্নর নিযুক্ত হন।

পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১৯ সালে দেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে।
আরও দেখুনঃ