বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ডধারী প্রবাসীরা দেশে ট্যাক্স ছাড়া সর্বোচ্চ তিনটি মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। পাশাপাশি ক্লোন, চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোন এবং রিফারবিশড মোবাইল আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তগুলো হলো—
১. দেশে আসা প্রবাসীরা ৬০ দিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি থাকলে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
২. বিএমইটি কার্ড থাকলে নিজের ব্যবহারের ফোন ছাড়াও আরও দুটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন। চতুর্থ ফোনে ট্যাক্স দিতে হবে। বিএমইটি কার্ড নেই—এমন প্রবাসীরা অতিরিক্ত একটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন, তবে ক্রয় রসিদ সঙ্গে রাখতে হবে। বিদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চোরাচালানিরা সাধারণ যাত্রীদের দিয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
৩. বৈধ আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। বর্তমানে শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ।
৪. আমদানি শুল্ক কমালে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইলের শুল্ক-ভ্যাটও কমাতে হবে। এতে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—সেজন্য এনবিআর ও বিটিআরসি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে একাধিক বৈঠক করেছে।
৫. নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে সাইবার অপরাধ, স্ক্যামিং ও মোবাইল ব্যাংকিং অপরাধে অন্যের সিম ব্যবহারের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
৬. ১৬ ডিসেম্বরের আগে অবৈধভাবে আমদানিকৃত কিন্তু বৈধ আইএমইআইযুক্ত ফোনগুলো হ্রাসকৃত শুল্কে বৈধ করা হবে। তবে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোন এই সুবিধা পাবে না।
৭. ব্যবহৃত কোনো মোবাইল ফোন ১৬ ডিসেম্বরের আগে বন্ধ হবে না। ঐদিন এনইআইআর চালু হবে, তাই আইএমইআইবিহীন ফোন কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা পুরনো ফোন ডাম্পিং ঠেকাতে কেসিং পরিবর্তন করে অবৈধভাবে আনা রিফারবিশড ফোন বন্ধ করা হবে। ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আসা ফ্লাইট শনাক্ত করে কাস্টমস দ্রুত অভিযান চালাবে।
প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৫–এ ইকেওয়াইসি ও আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এসব তথ্য লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
জিলাইভ২৪/এসএস
