বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে, আর এ মুহূর্তে ফুটবলবিশ্বে আলোচনার মূল বিষয় হলো: লিওনেল মেসি থাকলে আর্জেন্টিনার ভাগ্য কী হবে? সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার টমাস মুলার নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
বায়ার্ন মিউনিখ এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপজয়ী জার্মান দলের সদস্য মুলার মনে করেন, মেসি থাকলে আর্জেন্টিনার জন্য তা হতে পারে দু’ধরনের প্রভাব: একদিকে শক্তি, অন্যদিকে চাপ। ম্যাজেন্টা টিভিকে তিনি বলেন,
“আমার দৃষ্টিতে, মেসি থাকলে এটি দলকে একদম নতুন মাত্রা দিতে পারে। এটি দলের ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। কখনও তা ভালো দিকে, কখনও খারাপ দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে।”
মুলারের কথায়, সম্প্রতি এমএলএস কাপের ফাইনালে মেসি যে ইন্টার মায়ামিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ক্লাব ফুটবল ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানসিক চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা একই নয়।
“যে মুহূর্তে সে বল পেয়েছে, তখনই দুর্দান্তভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে এবং আক্রমণ শুরু করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটি ঠিক একইভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।”
একই সাক্ষাৎকারে মুলার জার্মানির সম্ভাবনাও আলোচনায় এনেছেন। চারবারের বিশ্বকাপজয়ী এই দলটি ২০১৮ এবং ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। মুলার বলেছেন,
“প্রথম দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষদের নাম দেখলেই বোঝা যায়, পরের পর্বে ওঠা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আমাদের গ্রুপের প্রতিপক্ষ কুরাসাও, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর। কুরাসাও ফুটবল মানচিত্রে নতুন, আইভরি কোস্ট শক্তিশালী, আর ইকুয়েডর দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে রানার্সআপ।”
নিচের টেবিলটিতে জার্মানির গ্রুপ প্রতিপক্ষ এবং তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| দেশ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| কুরাসাও | ফুটবল মানচিত্রে নতুন, তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত |
| আইভরি কোস্ট | আফ্রিকার শক্তিশালী দল, শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং |
| ইকুয়েডর | দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে রানার্সআপ, আক্রমণাত্মক দল |
মুলারের বিশ্লেষণে পরিষ্কার, আর্জেন্টিনা মেসি পেলে শক্তিশালী হতে পারে, তবে চাপও বাড়বে। জার্মানি আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিশ্চিতভাবে পরের পর্বে ওঠা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। বিশ্বকাপের মাঠে এই দুই দলে নজর থাকবে বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের।
