ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র তার সাবেক সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন দেখিয়েছেন। তিনি মেসির জন্য পাঠিয়েছেন সান্তোস ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। শুধু তাই নয়, মেসির তিন ছেলে—থিয়াগো, মাতেও ও সিরো—এর জন্যও একই নম্বরের জার্সি উপহার দিয়েছেন তিনি। সান্তোস ক্লাব তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জার্সিগুলোর ছবি প্রকাশ করে এই বিশেষ মুহূর্তটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
ক্লাবের পক্ষ থেকে এক আবেগময় বার্তায় বলা হয়েছে, “নেইমার জুনিয়র থেকে লিওনেল মেসি—প্রিন্স থেকে জিনিয়াস—এটি এক পবিত্র স্মারক, যার মূল্য অমূল্য।” ফুটবলের ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিংবদন্তি পেলে এই নম্বরকে অমরত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে নেইমার ও মেসিও নিজেদের প্রতিভা দিয়ে ১০ নম্বরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সান্তোসের ঐতিহাসিক ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের নাম উল্লেখ করে ক্লাব জানায়, এই উপহার যেন ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্য থেকে আর্জেন্টিনার জাদুকরের উদ্দেশে এক আন্তরিক শুভেচ্ছা।
মেসি ও নেইমারের বন্ধুত্বের শুরু বার্সেলোনায়। ২০১৩ সালে নেইমার কাতালান ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর মেসির সঙ্গে তার বোঝাপড়া দ্রুতই অনন্য হয়ে ওঠে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে তারা গড়ে তোলেন বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। সেই মৌসুমে বার্সেলোনা জেতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা ও কোপা দেল রে—এক ঐতিহাসিক ট্রেবল।
নিচে তাদের যৌথ সাফল্যের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলোঃ
| মৌসুম | ক্লাব | শিরোপা | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|
| ২০১৪-১৫ | বার্সেলোনা | চ্যাম্পিয়ন্স লিগ | এমএসএন ত্রয়ীর ১২২ গোল |
| ২০১৪-১৫ | বার্সেলোনা | লা লিগা | ইউরোপে সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা |
| ২০১৪-১৫ | বার্সেলোনা | কোপা দেল রে | ট্রেবল জয় |
২০১৭ সালে নেইমার বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে যোগ দেন। যদিও তারা আলাদা হয়ে যান, ২০২১ সালে মেসি পিএসজিতে গেলে আবারও দুজন একসঙ্গে খেলেন। ২০২৩ সালে দুজনই ইউরোপ ছাড়েন।
মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে দ্রুতই ক্লাবের ইতিহাস বদলে দেন। তিনি দলকে প্রথম ট্রফি জেতান, ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড ও ২০২৫ সালে এমএলএস কাপ জিতিয়ে সাফল্যের নতুন অধ্যায় লেখেন। ব্যক্তিগতভাবে গোল্ডেন বুট ও মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও অর্জন করেন।
অন্যদিকে নেইমার ২০২৫ সালে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। চোট-সংকট সত্ত্বেও তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব সান্তোসকে অবনমন থেকে রক্ষা করে।
বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও ফুটবল ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে নেইমারের এই উপহার যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই থাকুক, প্রকৃত সম্পর্ক সময় ও দূরত্ব পেরিয়েও অটুট থাকে।
