ভোটের কাউন্টডাউন শুরু, রাজবাড়ীতে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি তৎপর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলায় শুরু হয়েছে চূড়ান্ত কাউন্টডাউন। জেলার কেন্দ্রীয় স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ এখন যেন এক ব্যস্ত নির্বাচন নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সকাল হতেই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্টেডিয়ামের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা গ্রহণ করছেন তাঁদের দায়িত্বসংক্রান্ত সামগ্রী। ব্যালট পেপার ছাড়া প্রয়োজনীয় সব উপকরণ—ব্যালট বাক্স, সিল-স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা, সিলগালা খাম, বিভিন্ন ফরম ও কাগজপত্র—যথাযথভাবে বুঝে নিচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিটি উপকরণ মিলিয়ে দেখে স্বাক্ষরের মাধ্যমে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে অনেকে দ্রুত গাড়িতে উঠে ছুটছেন নিজ নিজ কেন্দ্রে, যাতে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু করা যায়।

পুরো প্রাঙ্গণে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে। প্রবেশপথে ছিল তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা। এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও নারী ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে আমাদের সদস্যরা সহযোগিতা করবেন।”

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু কেন্দ্রকে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হলেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

নির্বাচনী প্রস্তুতির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়প্রস্তুতির অবস্থা
ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণসকাল থেকে চলমান
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতিশতভাগ নিশ্চিত
নিরাপত্তা ব্যবস্থাআনসার-ভিডিপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রনির্দিষ্ট তথ্য নেই, নজরদারি জোরদার
প্রশাসনিক প্রস্তুতিসুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সম্পন্ন

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনাও চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে ভোটগ্রহণ।

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে গণতন্ত্রের মহাযজ্ঞ। রাজবাড়ীবাসী অপেক্ষায়—তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের প্রতিনিধি নির্বাচন।