ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (সশস্ত্র) মতিন উল্লাহ জানিয়েছেন, লুট হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৫ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, তিনটি মুঠোফোন, কম্পিউটারের মনিটর ও সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর ডিভাইস, ওয়াই-ফাই রাউটার এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে বাড়িটি পরিদর্শন করেন মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি
মতিন উল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, রাতের গভীরে পরিবারের সদস্যরা যখন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তখন মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে তারা। একপর্যায়ে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করতে থাকে ডাকাতেরা।
পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে ডাকাতেরা নারীদের পরনে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন মতিন উল্লাহ। লুট হওয়া গয়নার পরিমাণ ৫ ভরি ৮ আনা। এ ছাড়া বাড়িতে থাকা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন ও একটি বাটন মুঠোফোন নিয়ে যায় তারা।
ডাকাতেরা কম্পিউটারের মনিটর ও সিপিইউ, সিসিটিভি ব্যবস্থার মনিটর ডিভাইস এবং ওয়াই-ফাই রাউটারও লুট করে। সবশেষে নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এসব মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তবে ডাকাতেরা কতক্ষণ বাড়িতে অবস্থান করেছিল, কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল কিংবা কোন পথে পালিয়ে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ
ডাকাতির খবর পাওয়ার পর মীরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন এবং নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিপুল কর্মকার জানান, রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় তখনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি। ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মতিন উল্লাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের পর লুট হওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, ডাকাতির ধরন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সিসিটিভি ডিভাইস নিয়ে যাওয়ায় তদন্তে কী প্রভাব পড়বে?
ডাকাতেরা বাড়ির সিসিটিভি ব্যবস্থার মনিটর ডিভাইস নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মতিন উল্লাহ। তবে বাড়ির ক্যামেরায় ঘটনার কোনো দৃশ্য ধারণ হয়েছিল কি না, ধারণ করা ফুটেজ সংরক্ষিত আছে কি না কিংবা ডিভাইসটি নিয়ে যাওয়ার ফলে তদন্তে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আলামত, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং আশপাশের বাড়ি বা সড়কে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সহায়ক হতে পারে। ডাকাত দলের সদস্যসংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। এতজনের একটি দল কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করল এবং কীভাবে নির্বিঘ্নে সেখান থেকে চলে গেল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের উদ্দেশ্য কিংবা ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
রাতের গভীরে একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণ এবং পরিবারের নারীদের পরনে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘটনাটির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বাড়ির প্রবেশপথের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলোকব্যবস্থা এবং কার্যকর নজরদারি সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো বাড়িতে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেই যে অপরাধ ঘটবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং ঘটনাস্থলের আলামত অক্ষত রাখাও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মীরসরাইয়ের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশি তৎপরতার কথা জানানো হলেও ডাকাত দলের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









