,

মিঠামইনে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বোরহান উদ্দিন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে রিকশায় করে শহরের পুরানথানা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন বোরহান উদ্দিন চৌধুরী। মডেল থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরদিন মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিঠামইনসহ কিশোরগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতার গ্রেপ্তারকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।

বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও একাধিকবার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে তার একটি পরিচিত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছিল।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি অনেকটা বঞ্চিত ও কোণঠাসা ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি জয়ী হতে পারেননি। ওই নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছোট বোন আছিয়া আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছিল।

তার গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোরহান উদ্দিনের কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, ঘাগড়া ইউনিয়নে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং স্থানীয় বিরোধের জের ধরে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরোধের কারণে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে এবং সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ভিত্তিতেই বোরহান উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পরে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জেও আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং সেসব মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলছে।

বোরহান উদ্দিনের ক্ষেত্রেও এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের অবস্থান। গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে একদিকে যেমন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তার সমর্থকদের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমত। ফলে মামলার তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।