মালয়েশিয়ায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন, এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থল ও যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের রোমপিন জেলার কামপুং পেরভিরা জয়ার কাছে জালান ফেলদা সেলানচার–ফেলদা রেডং সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং রোমপিন জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি দাইহাতসু ব্র্যান্ডের পিকআপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন মো. কাদের (৩৪) ও মো. দালিম (৩০)। তারা দুজনই স্থানীয় একটি তেলপাম বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির পেছনের অংশে থাকা আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত সেগামাত হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চালক তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছেন।
রোমপিন জেলা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট শরিফ শাই শরিফ মন্দোই জানান, ওই পিকআপে মোট চারজন বিদেশি শ্রমিক ছিলেন। তারা ফেলদা রেডং এলাকা থেকে ফেলদা সেলানচার অভিমুখে কীটনাশক পরিবহন করছিলেন। পিকআপটির সামনের আসনে চালকসহ দুজন এবং পেছনের অংশে আরও দুজন শ্রমিক ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চলন্ত অবস্থায় পিকআপ চালক একটি গাড়ি ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বাম পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে সামনের আসনে থাকা মো. কাদের ও পেছনের যাত্রী মো. দালিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নে টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | জালান ফেলদা সেলানচার–ফেলদা রেডং, রোমপিন |
| সময় ও তারিখ | শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, দুপুর ২:২৫ মিনিট |
| নিহত | ২ জন বাংলাদেশি শ্রমিক (মো. কাদের, মো. দালিম) |
| আহত | ১ জন (গুরুতর) |
| যানবাহন | দাইহাতসু ব্র্যান্ডের পিকআপ |
| নিহতদের পেশা | তেলপাম বাগানের শ্রমিক |
নিহত শ্রমিকদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুয়াদজাম শাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভারী মালামাল ও রাসায়নিক বহনের ক্ষেত্রে যানবাহনের নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবহন ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত জরুরি বিষয়।
