,

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইন্টারমিটেন্ট উপবাস নিরাপদ কি

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা বিরতিযুক্ত উপবাস সাম্প্রতিক সময়ে বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি আলোচিত খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় ধরে না খেয়ে থাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ—এই পদ্ধতিটি শুধু ওজন কমানোর কৌশল হিসেবেই নয়, বরং রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ভারসাম্য রক্ষার সম্ভাব্য উপায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে আগ্রহ ও গবেষণা ক্রমেই বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সঠিক নিয়ম মেনে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণ করলে শরীরের মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে আসে। এর ফলে ওজন হ্রাস পায়, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে HbA1c-এর মাত্রা কিছু ক্ষেত্রে উন্নত হতে পারে। উপবাসের সময় শরীর প্রথমে গ্লুকোজ এবং পরে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শেখে, যা বিপাকীয় নমনীয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সম্ভাব্য উপকারিতা

নিয়ন্ত্রিত উপবাসের মাধ্যমে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করলে অনিয়ন্ত্রিত স্ন্যাকিং কমে এবং খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা তৈরি হয়।

নিচের টেবিলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কয়েকটি প্রধান সম্ভাব্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

উপকারিতাসংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
ওজন নিয়ন্ত্রণমোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে গিয়ে ধীরে ধীরে ওজন হ্রাস ঘটে
ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি বেশি সাড়া দেয়
রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতাHbA1c ও খাবারের পর শর্করার ওঠানামা কমতে পারে
বিপাকীয় নমনীয়তাশরীর শক্তির উৎস হিসেবে চর্বি ব্যবহারে দক্ষ হয়

ঝুঁকি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ

তবে সব ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিরাপদ বা উপযোগী নয়। ভুল পরিকল্পনা বা দীর্ঘ সময় উপবাস রাখলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া—অর্থাৎ রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার উপবাস ভাঙার পর অতিরিক্ত খাবার বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে, যা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার কারণ হয়।

বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা শক্তিশালী গ্লুকোজ-নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। টাইপ–১ ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং যাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ বোঝার সক্ষমতা কম—তাদের জন্য এই পদ্ধতি বিপজ্জনক হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার উপবাসকালীন ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সবশেষে বলা যায়, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী হতে পারে, তবে এটি কোনো সর্বজনীন সমাধান নয়। ব্যক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্য অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এই পদ্ধতি গ্রহণ করাই নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।