মার্কিন-ইরান সংঘাত: উত্তেজনা উর্ধ্বমুখী, সংঘর্ষের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে তীব্র করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলার ঝুঁকি থাকায় উভয় পক্ষের প্রস্তুতি সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে দ্রুত ধাবিত করতে পারে। কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি এখন তাত্ক্ষণিকভাবে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন সামরিক মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। বিশেষত বিমান, নৌ ও স্থল বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান সামরিক সম্পদের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

সামরিক সম্পদঅবস্থানকার্যকারিতা
ই-৩ সেনট্রি বিমান নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বিমানমধ্যপ্রাচ্যসম্ভাব্য বিমান হামলার নজরদারি ও কমান্ড-কন্ট্রোল কার্যক্রম সম্পাদন
অ্যাব্রাহাম লিনকন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপআরব সাগরবিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী জাহাজসহ দ্রুত হামলার সক্ষমতা প্রদান
যুদ্ধবিমানমধ্যপ্রাচ্যআক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক মিশনের জন্য ৫০টির বেশি বিমান মোতায়েন
সামরিক কর্মকর্তা ও জওয়ানআঞ্চলিক ঘাঁটিপ্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি কমাতে কিছু কর্মকর্তা স্থানান্তরিত

সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন নিয়ে। তবে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই লক্ষ্যবস্তু আক্রমণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। তেহরান ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন হামলা হলে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সৈদ ইরভানি মন্তব্য করেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে অনুমতি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী কির স্টার্মার জানান, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রতি সতর্ক সমর্থন প্রকাশ করেছে। কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও অনেক দেশকে টেনে আনতে পারে এবং ব্যাপক রক্তপাত ঘটাতে পারে।

কূটনৈতিক স্থবিরতা

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইরান তার মূল অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করার জন্য আলোচনাকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। বিপরীতে, মার্কিন প্রশাসনের ধৈর্য সীমিত বলে জানা যাচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক পন্থায় কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

মোটের ওপর, মার্কিন-ইরান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক শান্তিতেও প্রভাব ফেলবে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সংকট নিরসনের জন্য তৎপর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, যাতে একটি বড়ো যুদ্ধ এড়ানো যায়।