গাজীপুরে একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি স্থানীয়ভাবে এই অবৈধ কার্যক্রমের মূল পরিচালনাকারী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত টানা অভিযান পরিচালনা করা হয়। গাজীপুরের বড়বাড়ী কাজীবাড়ী পূর্বপাড়ার ২৪/এ নম্বর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা একটি সুসংগঠিত ইয়াবা উৎপাদনকেন্দ্রের সন্ধান পান। বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক ঘর মনে হলেও, ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় এটি কার্যত একটি ক্ষুদ্র ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে দুটি জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত ২২টি প্যাকেট থেকে আরও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়, যার মোট ওজন প্রায় ৪৮৯ গ্রাম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তৌহিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি স্থানীয় বাজার ও সীমান্তপথে আসা কাঁচামাল ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদন করতেন। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মিয়ানমার থেকে আনা হতো বলে জানা গেছে। এছাড়া, কাঁচামাল সংকট দেখা দিলে পূর্বে সংগৃহীত ইয়াবা গুঁড়া পুনরায় মিশ্রণ করে নতুন বড়ি তৈরি করতেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৫০০ পিস ইয়াবা গুঁড়া ব্যবহার করে প্রায় ৫ হাজার পিস নতুন ট্যাবলেট তৈরি করা সম্ভব হতো।
অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট তৈরির ছাঁচ, রাসায়নিক মিশ্রণের উপকরণ, বিপুল পরিমাণ সাদা পাউডার, প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম, ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র, মোবাইল ফোন সেট এবং নগদ অর্থ। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধারকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে অন্তত ২০ হাজার পিস ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব ছিল, যা বাজারজাত হলে বড় ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করত।
নিচে উদ্ধার ও জব্দকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| উপাদান/সামগ্রী | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৪,৫০০ পিস (৪৮৯ গ্রাম) |
| কাঁচামাল (রাসায়নিক) | বিপুল পরিমাণ |
| উৎপাদন যন্ত্রপাতি | ট্যাবলেট ছাঁচ, মিক্সিং সরঞ্জাম |
| প্যাকেজিং উপকরণ | পলিপ্যাকেট, মোড়ক সামগ্রী |
| ডিজিটাল ওজন যন্ত্র | ১টি |
| মোবাইল ফোন | একাধিক |
| নগদ অর্থ | অপ্রকাশিত পরিমাণ |
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. আবু নাসের। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কারখানার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের গোপন মাদক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি নয়, বরং তরুণ সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতা আরও জোরদার করা জরুরি।
