মানু মজুমদার । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মানু মজুমদার (১৯৫২ – ২১ মে ২০২৪) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম এবং বিশ্বস্ততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও প্রতিবাদী ভূমিকা

মানু মজুমদার মূলত কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা হলেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নেত্রকোণা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যখন সারা দেশে স্থবিরতা বিরাজ করছিল, তখন তিনি কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা (কলমাকান্দা) অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই প্রতিবাদের কারণে তৎকালীন সামরিক জান্তা তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং সামরিক আদালতে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। প্রায় ১০ বছর কারাবরণের পর ১৯৮৫ সালে তিনি মুক্তি পান।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

  • বিশ্বস্ত সহচর: ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর মানু মজুমদার তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • সাংসদ নির্বাচন: ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • সাংগঠনিক পদ: তিনি নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যু

এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ২০২৪ সালের ২১ মে রাতে ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মরদেহ দেশে আনার পর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ গ্রাম নেত্রকোণার কলমাকান্দার রামনাতপুরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

একনজরে মানু মজুমদার

বিষয়তথ্য
পরিচয়রাজনীতিবিদ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদী যোদ্ধা
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
নির্বাচিত আসননেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)
বিশেষ অবদান১৯৭৫ পরবর্তী প্রতিরোধ আন্দোলন ও ১০ বছর কারাবরণ
পেশাগত ভূমিকাপ্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী
প্রয়াণ২১ মে ২০২৪

Leave a Comment