নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মানসুর মোল্যা (৪৬) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা (২০) পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের ত্রি-মোহনার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মানসুর মোল্যা কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে হাসিব মোল্যার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং পরদিন রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার মাদক সেবন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। স্থানীয়ভাবে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য হাসিবকে বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা।
এর পরদিন শনিবার রাতে কদমতলা গ্রামের ত্রি-মোহনার মোড়ে হাসিবের সঙ্গে দেখা হয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার চাচাতো ভাই মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলামের। আগের দিনের মারধরের ঘটনা নিয়ে তাঁরা হাসিবের কাছে জানতে চান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সময় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসিব তাঁর কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানসুর ও নূর ইসলামের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
গুরুতর আহত মানসুর মোল্যাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই জামরিলডাঙ্গা এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আহত নূর ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার পর হাসিব মোল্যা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করেন। তাঁকে মাদক সেবনে নিষেধ করায় তিনি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে সেই বিরোধের জের ধরে মানসুর ও নূর ইসলামের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কালিয়া থানার ওসি মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত মানসুর মোল্যার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হাসিব মোল্যাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মাদক সেবন নিয়ে আগের দিনের বিরোধই হামলার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল কি না, তদন্তে সেটিও যাচাই করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য ছাড়া হামলার কারণ ও ঘটনার পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং আইনগত দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।









