রাজশাহীতে টাকা ভাংতি করে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা প্রথমে তার দোকানের শাটারের তালা ভেঙে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দোকান থেকে বের হয়ে আসা বারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর তার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর চন্ডিপুর এলাকা থেকে একদল যুবক বাকির মোড় এলাকায় আসে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দলের কয়েকজন সেখানে মাদক সেবন করছিলেন। পরে তারা আবদুল বারীর মুদি দোকানে গিয়ে টাকা ভাংতি করে দিতে বলেন। বারী ভাংতি টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ওই বিরোধ হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আবারও বাড়ে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
রাত পৌনে ২টার দিকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল বোমা নিয়ে বারীর বাড়ির সামনে যায়। হামলাকারীরা প্রথমে তার মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর দোকানের ভেতরে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে আবদুল বারীসহ পরিবারের সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন হামলাকারীরা বারীকে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও বারীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই রাজপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা, হামলায় পেট্রোল বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এবং আবদুল বারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
ওসি জানান, নিহতের মরদেহ রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এজাহার পাওয়ার পর অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এখন কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। একটি মুদি দোকানে টাকা ভাংতি করে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় যে বিরোধের সূত্রপাত, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে এত বড় সহিংসতায় রূপ নিল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে হামলাকারীদের প্রকৃত সংখ্যা, তাদের পরিচয়, তারা কীভাবে দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে এল এবং দোকানে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বারীর ওপর হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে হামলার পেছনে কারা ছিল বা ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের পর আবদুল বারীর মৃত্যুর কারণ ও শরীরে আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
নিহতের স্বজনরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনার পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।









