মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি

ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা নিরসনের আলোচনা হঠাৎ করেই থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (রয়টার্স) জানায়, টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৯১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা নবম দিনের মতো দাম বৃদ্ধির ঘটনা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫৩ সেন্ট বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষ করে ইরানের বন্দর ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকট এড়াতে বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং কৌশলগত মজুদ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

নিচে সাম্প্রতিক দামের পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

তেলের ধরনদাম (ডলার/ব্যারেল)পরিবর্তনশতাংশ বৃদ্ধি
ব্রেন্ট ক্রুড১১৯.৯৪+১.৯১১.৬২%
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট১০৭.৫১+০.৫৩০.৫৯%

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।