জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

সামরিক সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতি কাটিয়ে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা নমনীয় কূটনীতির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম সামরিক উত্তেজনার পর দুই পক্ষই সাময়িকভাবে আক্রমণ থেকে বিরত থাকায় স্বস্তি ফিরেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। খবরটি সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
Table of Contents
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত সাময়িক স্থবির হওয়ার সংকেত মিলতেই বাজারের চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দর: এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানের তেল ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৮৭ ডলারে নেমে আসে। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেই এই দাম ১০০ ডলারের কঠিন মাইলফলক ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
সামরিক বিরতি: মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার রাতের পর ইরানে নতুন করে কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি। বিপরীতে, শুক্রবার থেকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আর আক্রমণ করেনি।
কূটনৈতিক উদ্যোগ: জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সময় দিতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই আধিপত্য বজায় রাখা ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও ফোকালডাটার সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে জানা যায়, মার্কিন ভোটারদের মাত্র ৩৬ শতাংশ ট্রাম্পের সার্বিক পরিচালনায় সন্তুষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালকদের সংস্থা ‘এএএ’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম প্রায় ৪.১১ ডলারে উঠে যায়, যা সংঘাতের আগে ৩ ডলারের নিচে ছিল। তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব মার্কিন মূল্যস্ফীতিকে ৪.১ শতাংশে ঠেলে দিয়েছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার (২ শতাংশ) দ্বিগুণেরও বেশি।
সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা তেলের দরপতনের কারণে কিছুটা শিথিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএমই গ্রুপের ডেটা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে নীতিনির্ধারণী সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে ৩৬.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
| মানদণ্ড / বিষয় | সম্পর্কিত ডেটা ও তথ্য |
| ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান মূল্য | ব্যারেলপ্রতি ৯১.৮৭ ডলার |
| একদিনের ব্যবধানে দাম কমার হার | ৫ শতাংশের বেশি |
| সংঘাতকালীন তেলের সর্বোচ্চ দাম | ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম |
| যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান পেট্রলের দাম | গ্যালনপ্রতি ৪.১১ ডলার |
| সংঘাতের আগে পেট্রলের দর | গ্যালনপ্রতি ৩.০০ ডলারের কম |
| যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মূল্যস্ফীতি | ৪.১ শতাংশ |
| মূল্যস্ফীতিতে ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা | ২.০ শতাংশ |
| বর্তমান মার্কিন নীতিনির্ধারণী সুদের হার | ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫% |
| ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা (জরিপ অনুযায়ী) | ৩৬ শতাংশ সমর্থন |
| সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা | ৩৬.৩ শতাংশ |
তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন অর্থনৈতিক ও পণ্য বিশ্লেষকেরা। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্ব পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট জানান, সামরিক সংঘাত কিছুটা থমকে গেলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য ও নৌযান চলাচল এখনই পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক হবে না।
এর পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার চরম টানাপোড়েন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। যেহেতু বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এই রুটের নিরাপত্তাহীনতা তেলের বাজারকে যেকোনো সময় আবারও অস্থির করে তুলতে পারে।
মন্তব্য