জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন সামরিক তৎপরতা

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ এবং অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা, যারা রয়টার্স-কে জানিয়েছেন যে এই মোতায়েন মূলত ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদারের অংশ।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’-এর নেতৃত্বে একটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই ইউনিটের সঙ্গে একাধিক যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যা সমুদ্রপথে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের ইউনিট সাধারণত বিমান হামলা পরিচালনা, দ্রুত স্থল অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সংকটপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে দক্ষ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না; তবে পাঠালেও তা আগে থেকে প্রকাশ করবেন না। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রশাসন কৌশলগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাইছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন বাহিনী যুক্ত হলে সেখানে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটিতে। প্রতিটি ইউনিটে সাধারণত প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য থাকে, যারা বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

নিচে বর্তমান ও সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিষয়বর্তমান অবস্থানতুন মোতায়েনের পর সম্ভাবনা
মোট মার্কিন সেনাপ্রায় ৫০,০০০আরও কয়েক হাজার বৃদ্ধি
মেরিন ইউনিট সংখ্যা
প্রতি ইউনিটে সদস্য সংখ্যাপ্রায় ২,৫০০অপরিবর্তিত
প্রধান যুদ্ধজাহাজসীমিত উপস্থিতি‘ইউএসএস বক্সার’ যুক্ত

সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত সেনারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছে। তবে তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে অন্যতম লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা। রয়টার্স-এর আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় এলাকায় সেনা মোতায়েন এবং খারগ দ্বীপে উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো বিকল্পও বিবেচনা করছে। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি তেল এখান থেকেই প্রক্রিয়াজাত হয়।

তবে এমন সামরিক পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের দিকে এগোতে পারেন। কিন্তু মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ এই ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর