ভেনিজুয়েলার নৌযানে মার্কিন হামলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের নিন্দা

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা ভেনিজুয়েলা থেকে আসা এক নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।

জেনেভা থেকে এএফপি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

 

জাতিসংঘের তিন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন:

  • আন্তর্জাতিক আইন কোনো সরকারকে মাদক পাচারের অভিযোগে সরাসরি হত্যার অনুমতি দেয় না।
  • সব দেশকে জীবনের মৌলিক অধিকারকে সম্মান করতে হবে, এমনকি তারা সমুদ্রে বা বিদেশি ভূখণ্ডে অভিযান চালালেও।
  • প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কেবলমাত্র ব্যক্তিগত আত্মরক্ষা বা জীবনের প্রতি আসন্ন হুমকির ক্ষেত্রে অনুমোদিত।

তাদের ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত ১৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ভেনিজুয়েলা থেকে আসা আরেকটি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌকায় হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

  • চলতি মাসের শুরুতে ভেনিজুয়েলা থেকে আসা ১১ আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌযানেও মার্কিন বাহিনী গুলি চালায়।
  • ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান ভেনিজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং “ট্রেন ডি আরাগুয়া” দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
  • ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলা থেকে আসা তিনটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে, তবে তৃতীয়টির বিস্তারিত বা হতাহতের তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

প্রমাণ বিতর্ক

  • মার্কিন সরকার দুটি হামলার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে যে নিহতরা মাদক পাচারকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিপজ্জনক মাদক সরবরাহের চেষ্টা করছিল।
  • তবে তারা এই দাবি সমর্থনে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি।
  • উল্লেখযোগ্য যে, মার্কিন আইনে মাদক পাচার মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ নয়।

জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে:

  • ভেনিজুয়েলার এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র আক্রমণ চালাচ্ছে— এমন প্রমাণ নেই।

 

মার্কিন হামলাগুলো এমন এক সময় ঘটছে যখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গুজব ছড়িয়েছে যে ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করতে পারে।

 

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন:

  • আন্তর্জাতিক আইন একতরফাভাবে বিদেশি ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বা মাদক পাচারবিরোধী যুদ্ধ চালানোর অনুমতি দেয় না।
  • যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবৈধ “নার্কো-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” নীতি থেকে সরে আসতে হবে।
  • ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্ত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।