ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে নয়াদিল্লি।

পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদদেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।

এই ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’ (সিসিএস) বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্র সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সীমান্ত পারের যোগসূত্র স্পষ্ট এবং এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো:

১. ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি আপাতত স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না পাকিস্তান সন্ত্রাসের সমর্থন বন্ধ করার নিশ্চয়তা দেয়।
২. পাঞ্জাবের আটারি সীমান্ত চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৈধ ভ্রমণকারীদের ১ মে’র মধ্যে দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
৩. সার্ক ভিসা সুবিধা বন্ধ করে পাকিস্তানের নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভারতে অবস্থানরতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে।
৪. দিল্লিতে পাকিস্তানি দূতাবাসের সামরিক উপদেষ্টাদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই পদক্ষেপ ভারতও ইসলামাবাদে তাদের কূটনৈতিক মিশনে নিয়েছে।
৫. দুই দেশের দূতাবাসের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারতের এমন কড়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানেও জরুরি বৈঠক ডেকেছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি (এনএসসি)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ভারতের পদক্ষেপের পাল্টা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ‘সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ’-এর (ক্লস) পরিচালক তারা কার্থা জানিয়েছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা বলেই গণ্য করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই হামলার ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সম্প্রতি দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের প্রভাব থাকতে পারে।

কাশ্মীরে হামলার ঘটনার সময় ভারতের সফরে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। তারা ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে, সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্রুত দেশে ফেরা এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতির আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন, রুশ এবং আন্তর্জাতিক নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।