বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার লন্ডনে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
লন্ডন থেকে এএফপির প্রতিবেদন জানায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আইইএ জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূ-রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেটিই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়। এতে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানিমন্ত্রী, শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে প্রায় ১২০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র কেবল একজন ভারপ্রাপ্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করছে, আর চীন, সৌদি আরব ও রাশিয়া এতে অংশ নেয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন ইউরোপের টেকসই ও সাশ্রয়ী জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা রয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে সম্মেলনে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে, ওপেক এই সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আইইএ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক। তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানিকেও বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। ওপেকের মতে, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্য পূরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত।
অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালের প্রথম তেল সংকটের পর প্রতিষ্ঠিত আইইএ এখনও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির পাশাপাশি জ্বালানি রূপান্তরকেও গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আইইএ এবং এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ না করা এবং ওপেকের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
