ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আগে কখনও শোনা যায়নি। ব্রাইটন ক্লাবের চেয়ারম্যান টনি ব্লুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি গোপনভাবে ৬০ কোটি পাউন্ডের একটি জুয়া সিন্ডিকেটে লিপ্ত ছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
নথিতে বলা হয়েছে যে সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন জর্জ কট্রেল, যিনি প্রাক্তন রিফোর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। কট্রেল মূলত ব্লুমের পক্ষ থেকে বাজি লেনদেনের ঢাল হিসেবে কাজ করতেন। আদালতে দাখিল করা ১৯ পাতার নথি প্রকাশ করেছে যে, ব্লুম ও কট্রেলের মধ্যে লেনদেনের পরিমাণ এবং লাভ–ক্ষতির হিসাব নিয়েই প্রধান বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
‘স্টারলিজার্ড বেটিং সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত এই সংস্থা বার্ষিক ৬০ কোটি পাউন্ডের রাজস্ব আয় করে। বাজি খেলানো হয় বিভিন্ন খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী ও ফুটবলারদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। নথি অনুযায়ী, কট্রেল নিজে তেমন সফল জুয়া খেলোয়াড় ছিলেন না এবং প্রায়ই বড় অঙ্ক হারাতেন, তবে ব্লুমের নিয়ন্ত্রণে থাকা হিসাব ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের লেনদেন চালাতেন।
টনি ব্লুম ২০০৯ সালে ব্রাইটনের চেয়ারম্যান হন। ৭৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে ক্লাবে ব্যাপক বিনিয়োগ করেন। তার অর্থায়ন ক্লাবের এমেক্স স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। যদিও ব্লুম তার জুয়া দক্ষতার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, এই নতুন অভিযোগ EPL এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে জুয়া নিয়ন্ত্রণ, ক্লাব মালিকদের নৈতিকতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
