বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রায় প্রতিটি আসরেই নানা অভিযোগ, বিতর্ক ও গুঞ্জন দেখা যায়। তবে এবারের পরিস্থিতি আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো বিপিএল আয়োজনই এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই তা সম্পূর্ণভাবে দিতে পারেনি। গভর্নিং কাউন্সিল একাধিকবার সময়সীমা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার চিত্র বদলায়নি। ফলে খেলোয়াড় নিলামের তারিখ আবার পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে বিসিবি।
সূত্র জানায়, পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজির কেউই পুরো অঙ্কের গ্যারান্টি দেয়নি। ঢাকা ক্যাপিটালস অর্ধেক জমা দিয়েছে, সিলেট টাইটান্স আংশিক দিয়েছে। রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের জমার পরিমাণ নিয়েও পরিষ্কার তথ্য নেই। এ নিয়ে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যদের বক্তব্যও একেক রকম। অনেকের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এই অনাগ্রহ ও অনাস্থা বিসিবিকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে রেখেছে।
তবে সদস্য সচিব ইফতেখার আহমেদ দাবি করেছেন, ঢাকা, রংপুর ও রাজশাহীর কাছ থেকে পূর্ণ গ্যারান্টি পাওয়া গেছে, যদিও সিলেট ও চট্টগ্রাম কোনো অর্থই জমা দেয়নি। তিনি জানান, ব্যাংক গ্যারান্টি জমার সময় ১৩ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১৮ নভেম্বর করা হয়েছিল। এরপরও সব দল শর্ত পূরণ না করায় নিলাম পেছানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি এক টাকাও জমা দেয়নি। ফলে বিসিবি নিজেই ওই দলের দায়িত্ব নেওয়ার চিন্তা করছে এবং বাইরে থেকে বিনিয়োগকারী এনে অন্তত চলতি মৌসুমটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
গভর্নিং কাউন্সিলের একাধিক সদস্যের মতে, মাত্র তিন দলের গ্যারান্টির টাকায় পুরো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা, ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বিকল্প ব্যবস্থার দিকেই যাচ্ছে বিসিবি। সময়মতো এসব সংকট কাটানো না গেলে এবারের বিপিএল আয়োজন নিয়েই বড় প্রশ্ন থেকে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিলাইভ/টিএসএন
