,

বোয়ালখালীতে আগুনে পুড়ল ১৩ বসতঘর, দুই দোকান

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে একটি ভাড়া বাসার ১৩টি বসতঘর ও দুটি দোকান পুড়ে গেছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ভাড়াটিয়াদের ঘরে থাকা আসবাব, পোশাক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। ভাড়া বাসার মালিকের দাবি, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুরঘাট শেখ বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে জামাল সওদাগরের ভাড়া বাসা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে একটি ঘরে আগুন দেখা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা আশপাশের কক্ষ ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বসতঘরগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে বসবাসকারী পরিবার ও ভাড়াটিয়ারা।

খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন যাতে আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্যও কাজ করেন।

ভাড়া বাসার মালিক জামাল সওদাগর জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার ভাড়া বাসার ১৩টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে একটি মুদির দোকান ও একটি বেকারিও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেক ভাড়াটিয়া ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করার সুযোগই পাননি।

জামাল সওদাগরের দাবি, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে করা হিসাবের ভিত্তিতে বলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের মধ্যে রয়েছেন চকরিয়ার গার্মেন্টসকর্মী নাছিমা, গাড়িচালক শাকিল, ভোলার গাড়িচালক নেজাম, গার্মেন্টসকর্মী রাজিব, পটিয়ার রাজমিস্ত্রি হেলাল, হাজারীরচরের জান্নাত এবং উখিয়ার গাড়িচালক মুন্না। আগুনে তাদের ঘরে থাকা ব্যক্তিগত মালামালের পাশাপাশি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীও পুড়ে গেছে।

গার্মেন্টসকর্মী নাছিমা বেগম জানান, চাকরি থেকে পাওয়া ১০ হাজার টাকা তিনি ঘরে রেখেছিলেন। আগুন লাগার পর পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে সেই টাকা বের করে আনার কোনো সুযোগ পাননি। তার সঞ্চিত টাকাটিও আগুনে পুড়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই চাকরিজীবী হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরে ছিলেন না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত ঘরে ঢুকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার সুযোগ হয়নি। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তারাও আগুনের তীব্রতার কারণে মালামাল উদ্ধারে ঝুঁকি নিতে পারেননি।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভাড়া বাসায় পাঁচটি পরিবার বসবাস করত। পাশাপাশি কয়েকজন ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াও সেখানে থাকতেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিবার ও একাধিক ব্যক্তির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে তাদের অনেকের কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ অলক চাকমা জানান, পূর্ব কালুরঘাট এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক সংযোগ বা সরঞ্জামের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকলে ঘনবসতিপূর্ণ ভাড়া বাসায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ ঘটনায় পাশাপাশি থাকা বসতঘর ও দোকানগুলোও আগুনের আওতায় চলে আসে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণে আরও যাচাই প্রয়োজন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের মধ্যে কারও সঞ্চয়ের টাকা পুড়েছে, আবার কারও কর্মস্থলে থাকার কারণে ঘরে থাকা সামগ্রী উদ্ধারের সুযোগ হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি আর হয়নি।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।