বিয়ের সাত দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক যুবকের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু সংবাদে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর ফাজিলখাঁর হাট এলাকায়, পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) সড়কে। মৃত যুবকের নাম মো. আলী আব্বাস (২৮)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ঝিওরী গ্রামের গোলাম শরীফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আব্বাস এক আত্মীয়ের নিমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে ফাজিলখাঁর হাট এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আলী আব্বাসের মৃত্যু হয়। বিয়ের এক সপ্তাহ আগে এই মর্মান্তিক ঘটনা পরিবারের জন্য সহ্য করা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিহত যুবকের ভাই আলী আকবর প্রথম আলোকে বলেন, “গত বছরের ৩০ মার্চ আমার স্ত্রী ও সন্তান মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান। এক বছরও পার না হতে এবার আমার ভাইকেও হারালাম। পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর জামান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটানো গাড়ির শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ওই সড়ক এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার সময় বেশ ভিড় থাকে। দুর্ঘটনার আগে স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল চলাচলে সাবধানতার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দুর্ঘটনার মাত্রা কমানো যায়নি।

নিহতের তথ্য এবং দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

তথ্যবিবরণ
মৃত যুবকের নামমো. আলী আব্বাস
বয়স২৮ বছর
ঠিকানাঝিওরী গ্রাম, বারখাইন ইউনিয়ন, আনোয়ারা
দুর্ঘটনার স্থানফাজিলখাঁর হাট, দৌলতপুর, কর্ণফুলী
দুর্ঘটনার সময়শুক্রবার, সকাল ৭টা
দুর্ঘটনার ধরনমোটরসাইকেল ও গাড়ির সংঘর্ষ
আগামী বিয়ের তারিখ১ সপ্তাহ পরে (শুক্রবার)
আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকর্ণফুলী থানা, ওসি শাহিনুর জামান
ময়নাতদন্তের স্থানচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশেষ করে নদী অববাহিকায় এবং ঘনবাতাসযুক্ত এলাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন নৌযান চালকদেরও সাবধানতার নির্দেশ দিয়েছে। চট্টগ্রামের সড়ক ও নদী অঞ্চলগুলোতে চলাচলরত মানুষদের সতর্ক থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা যুবক ও তার পরিবারের জীবনে চিরস্থায়ী ক্ষত রেখে গেল। একে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমবেদনা ও সতর্কবার্তার প্রচলন শুরু হয়েছে।