মার্কিন প্রশাসন বিশ্বকে ধ্বংসের প্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে: জার্মান প্রেসিডেন্ট

জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, এই ধরনের আচরণ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে ভেঙে দিচ্ছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে বার্লিনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে তিনি বলেন, “বর্তমান আমেরিকান প্রশাসনের নীতিমালা বিশ্বের স্থিতিশীল ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেইনমায়ার আরও বলেন, বিশ্বকে এখন এমন একটি ‘চোর-ডাকাতের আস্তানায়’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো অন্য দেশের সম্পদ দখল করছে। তিনি যুক্তি দেখান, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র বর্তমানে নজিরবিহীন আক্রমণের সম্মুখীন। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপকে তিনি ‘ঐতিহাসিক ভাঙন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “যেমনভাবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ বিশ্বব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করেছে, ঠিক তেমনি আমেরিকার বর্তমান আচরণও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক।” তার মতে, এমন কোনো ধারা চলতে থাকা উচিত নয় যেখানে নির্দিষ্ট বড় শক্তি দেশ বা অঞ্চলকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

স্টেইনমায়ারের এই মন্তব্য জার্মানিতে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে, যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আলংকারিক। এর প্রভাবই প্রতিফলিত হয়েছে একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে, যেখানে দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জার্মান নাগরিকদের আস্থা কমে গেছে।

নিচের টেবিলে দেখা যাচ্ছে জার্মান নাগরিকদের বিভিন্ন দেশের প্রতি আস্থা ও উদ্বেগের পরিমাণ:

দেশ/সংশ্লিষ্ট বিষয়আস্থার হার (%)উদ্বেগ/অবিশ্বাস (%)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র2476
ফ্রান্স6832
যুক্তরাজ্য6535
ন্যাটো সুরক্ষা (সাধারণ উদ্বেগ)69

টেবিল থেকে স্পষ্ট যে, জার্মান নাগরিকরা ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দিকে বেশি আস্থা রাখছেন, কিন্তু আমেরিকার ক্ষেত্রে দৃঢ় আস্থা নেই। বিশেষ করে ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ৬৯ শতাংশ মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আমেরিকা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে কি না।

বিশ্ব রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সতর্কবার্তা শুধুই এক ব্যক্তির বক্তব্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত যে, বর্তমান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর আচরণ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। স্টেইনমায়ারের বক্তব্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একবার সতর্কবার্তা হিসেবে পৌঁছেছে যে, বৈশ্বিক নিয়মনীতি ও গণতন্ত্র রক্ষা করার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর।