কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। আটক ব্যক্তির নাম সজিব বেপারী। তিনি কক্সবাজারের একটি বাস্তুচ্যুত শরণার্থী শিবিরে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা এলাকায় অবস্থিত বিজিবি চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তা ও তল্লাশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই চেকপোস্টে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই চলছিল। এ সময় ত্রিশ নম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সন্দেহভাজন অবস্থায় থাকা সজিব বেপারীকে থামিয়ে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির সময় তাঁর কাছ থেকে মোট ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করার পর তাঁকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক পরিবহন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। ত্রিশ নম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
অন্যদিকে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কনস্টেবল সজিব বেপারী বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে তাঁর কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তিনি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মাদক পরিবহন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | রামু উপজেলা, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন, মরিচ্যা চেকপোস্ট |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা |
| আটক ব্যক্তি | সজিব বেপারী |
| পেশাগত পরিচয় | আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল |
| কর্মস্থল | কক্সবাজারের বাস্তুচ্যুত শরণার্থী শিবির এলাকা |
| স্থায়ী ঠিকানা | ধামরাই, ঢাকা |
| উদ্ধারকৃত মাদক | ইয়াবা ট্যাবলেট, মোট সংখ্যা বিশ হাজার পিস |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ত্রিশ নম্বর ব্যাটালিয়ন |
| বর্তমান অবস্থা | জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্ত চলমান |
সীমান্তবর্তী এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে অবৈধ মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব চেকপোস্টে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের পরিচয় যাচাই এবং বহনকৃত সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়, যাতে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পরিবহন রোধ করা যায়।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
