ইরান প্রসঙ্গের পর কিউবা নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিউবা সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত একটি ক্লাবে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি কিউবাকে ‘খুব দ্রুত দখলে নেওয়া হবে’ বলে রসিকতাপূর্ণ ভঙ্গিতে ইঙ্গিত করেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প সাবেক কংগ্রেস সদস্য ড্যান মিকার প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, মিকার মূলত কিউবা নামের একটি স্থান থেকে এসেছেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত দখলে নিতে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবার কিছু সমস্যা রয়েছে এবং তিনি কাজ একের পর এক শেষ করতে পছন্দ করেন। তার বক্তব্যে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও উঠে আসে, যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ইরান থেকে ফেরার পথে একটি বড় যুদ্ধজাহাজ কিউবার উপকূলে পাঠানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। ওই যুদ্ধজাহাজটি সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী “আব্রাহাম লিংকন” হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি রসিকতার সুরে আরও বলেন, যদি ওই যুদ্ধজাহাজ কিউবার উপকূল থেকে প্রায় একশ গজ দূরে অবস্থান নেয়, তবে তারা হয়তো বলতে পারে ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্যটি মূলত এক অনুষ্ঠানের হাস্যরসাত্মক অংশ ছিল, তবে তার মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিচে বক্তব্যের প্রধান অংশগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
অনুষ্ঠানস্থলফ্লোরিডা, পাম বিচের একটি ক্লাব
মূল বক্তাডোনাল্ড ট্রাম্প
আলোচিত দেশকিউবা
উল্লেখিত প্রসঙ্গকিউবা সম্পর্কে মন্তব্য ও সামরিক প্রসঙ্গ
সম্ভাব্য যুদ্ধজাহাজআব্রাহাম লিংকন (যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী)
প্রতিবেদক মাধ্যমফক্স নিউজ
মন্তব্যের ধরনরসিকতামূলক ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বক্তব্যে কিউবা নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি সংক্রান্ত ইঙ্গিত একই সঙ্গে উঠে আসে। তবে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা দেননি, বরং বক্তব্যটি ছিল একটি অনুষ্ঠানের অংশ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য উপস্থিতি সম্পর্কিত মন্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণে স্থান পেয়েছে।