বিক্ষোভের মাঝেই সার্বিয়ায় গঠিত হচ্ছে নতুন সরকার

দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সার্বিয়া নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। নতুন এই সরকার নেতৃত্ব দেবেন নবীন রাজনৈতিক মুখ ড. জুরো ম্যাকুট, তবে সরকারে থাকছেন পূর্ববর্তী প্রশাসনের বহু পরিচিত মুখ।

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুসেভিচসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। ওই সময় একটি ট্রেন স্টেশনে ছাউনিভাঙা দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার বেলগ্রেড থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সংসদে মন্ত্রিসভা প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী মনোনীত ম্যাকুট বলেন, “সার্বিয়া এখন বিভক্ত এবং অবরোধে ক্লান্ত।” তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভায় পূর্ববর্তী সরকারের অন্তত ২০ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে আছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (অর্থ, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা) দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

বিরোধী এমপি আলেকসান্ডার জোভানোভিচ, যিনি পরিবেশবাদী ‘ইকোলজিক্যাল অপ্রাইসিং’ আন্দোলনের সদস্য, বলেন, “এটি নতুন সরকার নয়, বরং পুরোনোর পুনরাবৃত্তি—একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সরকার।”

বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এই সরকার সংকট সমাধানের বদলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াবে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর মনোনয়নে তারা কড়া সমালোচনা করেছেন। কারণ, তিনি ছাত্র বিক্ষোভ ও শিক্ষক ধর্মঘট দমনে অভিযুক্ত।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বরিস ব্রাতিনা, যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্বিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আলোচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এক জনসমাবেশে তিনি ইইউ’র পতাকা পুড়িয়ে সমালোচিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বোজান ক্লাকার বলেন, “এই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, এটি পূর্ববর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে—কোনো আদর্শিক পরিবর্তন ঘটেনি।”

মনোনীত প্রধানমন্ত্রী ড. ম্যাকুট একজন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট হলেও তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচের নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাড়া রাজনীতিতে তার কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।