জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ইস্টার উদযাপনে প্রস্তুত খ্রিস্টান সম্প্রদায়

আগামী রোববার বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায় পালন করতে যাচ্ছে ইস্টার—যিশু খ্রিস্টের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের স্মরণে পালিত খ্রিস্টধর্মের অন্যতম পবিত্র উৎসব। ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স—তিনটি প্রধান খ্রিস্টান শাখার অনুসারীরাই এই দিনটি গভীর ধর্মীয় আবেগে উদযাপন করে থাকেন।

ইস্টারের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। প্রতি বছর বসন্তকালের প্রথম পূর্ণিমার পরবর্তী রোববারেই এই দিনটি উদযাপিত হয়। এর আগে আসে চল্লিশ দিনব্যাপী উপবাস ও প্রার্থনার সময় ‘লেন্ট’, যা যিশুর মরুভূমিতে কাটানো সময়কে স্মরণ করে পালন করা হয়।

ইস্টার সপ্তাহ, অর্থাৎ ‘হলি উইক’ শুরু হয় ‘পাম সানডে’ দিয়ে, যেদিন যিশুর জেরুজালেমে আগমনের স্মরণ করা হয়। এরপর আসে ‘মন্ডি থার্সডে’, যেদিন যিশু তাঁর ১২ শিষ্যের সঙ্গে ‘লাস্ট সাপার’ করেন। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, এই সময় তিনি নিজের দেহ ও রক্ত মানবজাতির মুক্তির জন্য উৎসর্গ করেন।

পরদিন ‘গুড ফ্রাইডে’তে স্মরণ করা হয় যিশুর দুঃখ-কষ্ট ও ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। ইতিহাস অনুযায়ী, যিশুকে ইহুদি ধর্মীয় নেতা ও রোমান প্রশাসনের বিরোধিতার মুখে অভিযুক্ত করে বিকেল তিনটায় ক্রুশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকে কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিতে রাখা হয়।

এই পবিত্র স্মৃতির ধারাবাহিকতায় রোমের কলোসিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘স্টেশন অব দ্য ক্রস’ শোভাযাত্রা।
‘হলি স্যাটারডে’ পালিত হয় শোক ও নীরবতার দিন হিসেবে। এই দিন শেষ হয় ‘ইস্টার ভিজিল’-এর মাধ্যমে, যেখানে জ্বালানো হয় ‘পাসকাল ক্যান্ডেল’—যিশুর পুনরুত্থানের প্রতীক। এই ভিজিলে প্রতিবছর প্রাপ্তবয়স্ক খ্রিস্টানদের ব্যাপটিজমও অনুষ্ঠিত হয়।

‘ইস্টার সানডে’ হল সেই দিন, যেদিন যিশুর পুনরুত্থান বিশ্বাস করা হয়। খ্রিস্টান ধর্মমতে, অনুসারী মেরি ম্যাগডালেন যিশুর সমাধিতে গিয়ে দেখেন, কবরের পাথর সরানো এবং যিশুর দেহ অনুপস্থিত—যা তাঁর পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

ইস্টার উদযাপন নানা ঐতিহ্য ও রীতিতে ভরপুর। তিন দিনের শোক শেষে গির্জার ঘণ্টাধ্বনি ফিরে আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ডিম সাজানোর ঐতিহ্য, যা নতুন জীবন ও পুনর্জন্মের প্রতীক, ইস্টারের অন্যতম সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ।

ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টরা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ইস্টার উদযাপন করে থাকেন। তবে এবছর ব্যতিক্রম—দুটি ক্যালেন্ডারের হিসাব মিলেছে, ফলে সকল খ্রিস্টান সম্প্রদায় একই দিনে এই উৎসব উদযাপন করবেন, যা একটি বিরল ঘটনা।

Tags :

নিউজ ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর