,

বাবা হত্যায় ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

রাঙামাটির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে হত্যার দায়ে তাঁর ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রায় নয় বছর আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও মামলার অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে অথবা তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ বিষয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এমন পশুবৃত্তিসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

যেভাবে হত্যা করা হয়

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছিলেন শান্তিলাল চাকমা। ওই রাতে আসামিরা তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান।

এরপর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর শান্তিলাল চাকমার সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়। নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় মামলা করা হয় এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি মামলার বিভিন্ন নথি ও অন্যান্য উপাদান আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আসামিপক্ষের আপিলের প্রস্তুতি

তবে রায়ে সন্তুষ্ট নয় আসামিপক্ষ। সোহেল চাকমা ও আলোময় চাকমার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, মামলার মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত আলোময় চাকমা আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। পরে তিনি পলাতক হন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিলাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

আইনজীবীর দাবি, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সোহেল চাকমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিষয় পর্যালোচনা করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং এরপর উচ্চ আদালতে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০১৭ সালের ৬ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের প্রায় নয় বছর পর নিম্ন আদালতে মামলাটির রায় হলো। আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মামলাটিতে একদিকে রাষ্ট্রপক্ষ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালতের সিদ্ধান্ত পেয়েছে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ শুরু থেকেই সোহেল চাকমার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। আপিল হলে উচ্চ আদালতে মামলার নথি, সাক্ষ্য ও নিম্ন আদালতের রায় আবারও আইনি পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।