ভারতের বীমা খাত বর্তমানে একটি গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬, যা ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বীমা খাতের সমস্যা মূলত গ্রাহকের চাহিদার অভাবে নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থা ও খরচের কারণে সম্প্রসারণ ও অন্তর্ভুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, সরকারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য “২০৪৭ সালের মধ্যে সবার জন্য বীমা” অর্জন করতে হলে বীমা শিল্পকে সাধারণ জিডিপি-এর চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোতে হবে। তবে, প্রিমিয়াম আয়ে স্থির বৃদ্ধি এবং বীমা ঘনত্ব বৃদ্ধির পরেও ব্যাপক কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মূল সমস্যাটি হলো উচ্চ গ্রাহক অধিগ্রহণ খরচ (CAC) — অর্থাৎ নতুন পলিসি গ্রাহক আকৃষ্ট ও অন্তর্ভুক্ত করতে যে খরচ হয়, বিশেষ করে এজেন্ট ও ব্রোকারদের কমিশন এবং ফি। এই খরচ এখন কেবল কার্যক্রমিক ব্যয় নয়, বরং কাঠামোগত বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাজারের গতিবিধি ব্যাহত করছে, অন্তর্ভুক্তি সীমিত করছে, গ্রাহকের জন্য মূল্য হ্রাস করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা আরও উল্লেখ করে যে, প্রচলিত মধ্যস্থতাকারী-নির্ভর বিতরণে অতিরিক্ত নির্ভরতা, ডিজিটাইজেশনের ব্যাপক বিনিয়োগ সত্ত্বেও, অবহেলিত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বীমার প্রবেশ বাড়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, বীমা ঘনত্ব (প্রতি গ্রাহকের গড় খরচ) FY25-এ বৃদ্ধি পেয়ে US$97 হয়েছে, তবে বীমা প্রবেশ (GDP-তে বীমার অংশ) ৩.৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। এটি রাজস্ব বৃদ্ধির এবং বাজার অন্তর্ভুক্তির মধ্যে ব্যবধান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
নিম্নের টেবিলে FY21 থেকে FY25 পর্যন্ত বীমা খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক উপস্থাপন করা হলো:
| সূচক | FY21 | FY25 | প্রবণতা |
|---|---|---|---|
| মোট প্রিমিয়াম আয় | ₹8.3 লাখ কোটি | ₹11.9 লাখ কোটি | ↑ 43% |
| বীমা ঘনত্ব (US$) | — | 97 | ↑ |
| বীমা প্রবেশ (% GDP) | — | 3.7 | ↓ |
| বিতরণ খরচ (% প্রিমিয়াম)* | — | উচ্চ | ধারাবাহিক চাপ |
*বিভিন্ন খাতে ভিন্ন, তবে মোটের ওপর বিতরণ খরচের প্রভাব অত্যাধিক।
সমীক্ষা সুপারিশ করছে যে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং খরচ কাঠামো পুনর্গঠন করতে নীতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে “সবকা বিমা, সবকি সুরক্ষা আইন, ২০২৫” অনুসারে আইনগত সংস্কার অন্তর্ভুক্ত, যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আধুনিকীকরণ এবং ব্যয়বহুল বিতরণ চ্যানেলের উপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্য রাখে।
সংক্ষেপে, প্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহার, বিতরণ মডেলের সরলীকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সমর্থনের মাধ্যমে ব্যয় হ্রাস ছাড়া, বীমা শিল্প বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রিমিয়াম আয়ের সুবিধাকে বাজারে গভীর প্রভাব ও সর্বস্তরের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে না।
