বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন ট্রাম্প

এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরকালে তাঁর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানায়।

 

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে অনুষ্ঠেয় এপেক বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই সময় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়নি। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনকে দুই নেতার সাক্ষাতের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত মাসে এক ফোনালাপে শি জিনপিং ট্রাম্প দম্পতিকে চীন সফরে আমন্ত্রণ জানান। পাল্টা আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্পও, তবে এখনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ কোরিয়া সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আলোচনার মূল বিষয় হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও আলোচনায় আসবে। সফরের আরেকটি লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। এর আগে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরেও ট্রাম্প এ ধরনের উদ্যোগ নেন।

 

এশিয়া সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে। যদিও কিম বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা অনিশ্চিত। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং সম্প্রতি ট্রাম্পকে এপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, বৈঠকটি কিমের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি সেটা করব। আমরা কথা বলব। কিম আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। আমরাও তাকে দেখার অপেক্ষায় আছি এবং সম্পর্ক আরও ভালো করব।”

 

ট্রাম্প, শি জিনপিং এবং কিম— তিন নেতার সম্পর্কই বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন কিম, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার সমালোচনা করেন, যদিও প্রায়ই দাবি করেন যে তাঁদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো।

কুচকাওয়াজ চলাকালে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন: “প্রেসিডেন্ট শি এবং চীনের জনগণকে অভিনন্দন। পুতিন ও কিমকেও আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন— যখন আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।”

পরদিন তিনি শি, পুতিন ও মোদির একটি ছবি শেয়ার করে মন্তব্য করেন: “মনে হচ্ছে আমরা ভারত ও রাশিয়াকেও চীনের হাতে হারালাম। আশা করি তাদের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ হোক।”

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কুচকাওয়াজকে “দর্শনীয় অনুষ্ঠান” আখ্যা দিয়ে বলেন: “তারা জানত আমি দেখব, আমিও দেখেছি। আমার সবার সঙ্গে সম্পর্কই ভালো। আগামী এক-দুই সপ্তাহে বোঝা যাবে আসলেই সম্পর্ক কতটা ভালো।”

 

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকটি হচ্ছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তুঙ্গে। চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপে চীনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়।

এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত মাসে এক নির্বাহী আদেশে শুল্কহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখেন। এর আগে এপ্রিলেই বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চরমে পৌঁছেছিল।