খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৪ পিএম

বয়সের সেঞ্চুরি পার করেছেন বহু আগে। একান্নবর্তী পরিবারে সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বেশ আনন্দেই চলছিল নৃপেন্দ্র বর্মণের জীবন। হঠাৎই এলো চমকপ্রদ খবর— তাঁর মুখে আবার গজিয়েছে ‘দুধের দাঁত’। আর এ খবরে আনন্দে ভরে উঠল গোটা পরিবার, শুরু হলো উৎসবের আমেজ। এমনকি আয়োজন করা হলো এক অভিনব অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান, যা ঘিরে পুরো গ্রামজুড়ে হইচই পড়ে যায়।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কোচবিহারের বড় হলদিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নৃপেন্দ্র বর্মণ। গ্রামে সবার কাছে তিনি পরিচিত ‘দাদু’ নামে। ভোটার কার্ড অনুযায়ী তাঁর বয়স এখন ১০২ বছর হলেও, তিনি নিজে দাবি করেন তাঁর বয়স ১১৩ বছর। বর্তমানে তিনি পরিবারের তিন ছেলে ও চার মেয়ে, আর ৩৪ জন নাতি-নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন।
বয়সের ভারে অনেক আগেই তাঁর দাঁত পড়ে গিয়েছিল। হাতে গোনা কয়েকটি দাঁতও প্রায় ক্ষয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি নাতি-নাতনিরা খেয়াল করেন, দাদুর মাড়ি ফুঁড়ে ধবধবে সাদা তিনটি নতুন দাঁত গজিয়েছে। এ দৃশ্য দেখে সবাই বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দাঁত গজানোয় দাদুর জন্য অন্নপ্রাশনের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সেই অনুষ্ঠানে গ্রামে ছিল উৎসবের পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন হলদিবাড়ির বিডিও রেঞ্জি লামু ভুটিয়া এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকরাও। সবাই নৃপেন্দ্র বর্মণের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার কামনা করেন।
নপেন্দ্র বর্মণ এখনও শারীরিকভাবে যথেষ্ট শক্তসমর্থ। একাই হাঁটাচলা করতে পারেন। তাঁর আসল বাড়ি ছিল বর্তমানে বাংলাদেশের রংপুর জেলার মুক্তির হাটের ভোগডাবুড়ি গ্রামে। ১৯৭২ সালে তিনি ভারতে চলে আসেন এবং তখন থেকেই কোচবিহারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
অপ্রত্যাশিত এই অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে প্রথমে লজ্জা পেলেও, শেষমেশ মুখভরা হাসিতে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন শতবর্ষী নৃপেন্দ্র বর্মণ।
মন্তব্য