রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার। টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ও রোমাঞ্চকর ফাইনালে একক আধিপত্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মিসরের তারকা খেলোয়াড় জিয়াদ ইব্রাহিম। চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিনি শ্রীলঙ্কার প্রতিভাবান খেলোয়াড় রভিন্দ্র লক্ষ্মীশ্রীকে সরাসরি ৩-০ সেটে পরাস্ত করে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন।
পাঁচ দিন ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞ স্কোয়াশ তারকারা অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম রাউন্ড থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত কোর্টে দেখা গেছে কৌশলগত আক্রমণ ও টানটান উত্তেজনার লড়াই। বিদেশের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগীদের সাথে তাল মিলিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও দেখা গেছে নৈপুণ্যের ছাপ। প্রতিযোগিতায় দারুণ পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতা দেখিয়ে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়ের বিশেষ পুরস্কার ও সম্মাননা ছিনিয়ে নিয়েছেন তরুণ স্কোয়াশ তারকা পারভেজ করিম।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মুহা. হাসান-উজ-জামান, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল। তিনি চ্যাম্পিয়ন জিয়াদ ইব্রাহিম ও রানার্সআপ রভিন্দ্র লক্ষ্মীশ্রীর হাতে ট্রফি, সম্মাননা পদক ও প্রাইজমানির চেক তুলে দেন।
মঞ্চে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের প্রমোটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অবসরপ্রাপ্ত) এবং বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পরিচালক কর্নেল মহাসিনুল করিমসহ দেশি-বিদেশি ক্রীড়া কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১১টি দেশের ২৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ তারকা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ছিল—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, হংকং, সিঙ্গাপুর, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, জাপান ও জার্মানি। লাল-সবুজের পতাকাতলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমিনুল, সাইমন ও পারভেজ করিম। বৈশ্বিক পর্যায়ের শীর্ষ তারকাদের মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের দুর্দান্ত সুযোগ পান এই দেশীয় অ্যাথলেটরা।
পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে আয়োজকরা দেশের স্কোয়াশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, বিগত পাঁচ বছরে দেশের স্কোয়াশ অঙ্গনে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মান বৃদ্ধির কাজ হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব জোরদার করতেই আয়োজন করা হচ্ছে এমন বড় বড় টুর্নামেন্ট। ২০৩২ সালের অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের স্কোয়াশ দলের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এখন এগিয়ে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।









