জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

প্রেমের সিনেমা বন্ধের নোটিশ দেওয়া আইনজীবী নিজেই রোমান্টিক ছবির ভক্ত

নাটক ও চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত প্রেম এবং রোমান্সের উপস্থিতি তরুণ সমাজ ও দেশীয় সংস্কৃতির ক্ষতি করছে—এমন অভিযোগ তুলে এ ধরনের নির্মাণ বন্ধে সম্প্রতি সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তবে এই আইনি পদক্ষেপের পরই তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরনো কার্যক্রম নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। রোমান্সনির্ভর কনটেন্ট বন্ধের জোর দাবি তোলা এই আইনজীবীর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেই ভেসে উঠেছে একের পর এক রোমান্টিক সিনেমা দেখার তথ্য ও বন্দনা।

 

তাঁর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্ট ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি ভারতীয় রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা ‘রাধে শ্যাম’ দেখার কথা নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেছিলেন। শুধু এটিই নয়, এর কিছুদিন আগে একই বছরের ৯ মে হলিউডের বিখ্যাত রোমান্টিক ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার সিনেমা ‘স্টারডাস্ট’ দেখার বিষয়েও তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন। আইন অঙ্গন থেকে শুরু করে বিনোদন জগতে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যে ধরনের গল্প স্বয়ং আইনজীবীর নিজের বিনোদনের রসদ যোগায়, সেটির সম্প্রচার বন্ধে আইনি পথ বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা ঠিক কতখানি।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনস্বার্থে এই বিতর্কিত আইনি নোটিশটি পাঠান আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন। নোটিশে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করেন।

 

নোটিশে দাবি করা হয়, বর্তমান সময়ে নির্মিত বেশিরভাগ নাটক ও সিনেমায় কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর গল্প উপস্থাপনের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। এতে করে দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং তারা নিজের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।

 

এখানেই শেষ নয়, নাটকে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে দেখানোর তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে নোটিশে। এ জাতীয় উপস্থাপনাকে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অস্থিতিশীলতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে তোলার প্রধান কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

আইনজীবী মামুন তাঁর অবস্থানের সমর্থনে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১(১), ২৩ ও ৩৯-এর বিধান তুলে ধরেন। নোটিশে তিনি জানান, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও সমাজ, শালীনতা ও নৈতিকতার সুরক্ষায় রাষ্ট্র যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা রাখে। আর ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

 

কেবল ভালোবাসার গল্প বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, ইতিহাস, মানসম্মত শিক্ষা, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের প্রতিরক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে সরকারি তাগিদ ও নির্দেশনা জারির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে সরাসরি জনস্বার্থে রিট আবেদন করার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর