বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমেনা খানম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক বছর আগে কাউনিয়া এলাকার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন তিনি। সেখানে একাই থাকতেন আমেনা খানম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাড়ির একটি অংশ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিষয়টি বাড়ির মালিক রিনা বেগমের নজরে এলে তিনি আমেনা খানমের ছেলে রিফাতকে খবর দেন। রিফাত ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পরে পুলিশ ভোরে ওই বাসায় গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের পর খাটের ওপর আমেনা খানমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর হাত ও পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, নিহতের ছেলের কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসার দরজা তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা খুলে ভেতরে গিয়ে খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসাটি কেন তালাবদ্ধ ছিল, কখন থেকে আমেনা খানমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বাড়ির মালিক, অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও নিহতের পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে। আমেনা খানমের একা বসবাসের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ বা সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষিকার মরদেহ যেভাবে উদ্ধার হয়েছে, তাতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাটিকে এখনই নিশ্চিতভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত না করে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময় এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।









