,

বন্ধুকে আটকে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার তিন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বন্ধুকে আটকে রেখে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন গন্ধর্বপুর এলাকার রেদোয়ান হোসেনের ছেলে নাদিম হোসেন (২২), শুক্কুর আলীর ছেলে সিহাব হাসান (২১) এবং জহিরুল ইসলামের ছেলে ইমন মিয়া (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে তারাবো পৌরসভার মৈকুলী এলাকার ওই কিশোরী তার বন্ধু আকাশ আহম্মেদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে পূর্বাচল উপশহরে ঘুরতে যান। পরে রাতে তারা মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। আনুমানিক রাত ১১টার দিকে গন্ধর্বপুর এলাকায় পৌঁছালে কিশোরীর পূর্বপরিচিত নাদিম, সিহাব ও ইমন তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিন যুবক জোরপূর্বক কিশোরী ও তার বন্ধুকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যান। সেখানে আকাশ আহম্মেদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর কিশোরীর ওপর পালাক্রমে ধর্ষণ চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আকাশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা এনে দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে—এমন শর্ত দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি বুঝে আকাশ টাকা নিয়ে আসার কথা বলে ওই ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

৯৯৯ নম্বরে খবর পাওয়ার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই নাদিম, সিহাব ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষা ও মামলার পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।

ঘটনাটিতে একই সঙ্গে যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের দ্রুত অভিযান ও ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মামলার তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অন্যান্য দিক যাচাই করা হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।