,

বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ বাংলাদেশের

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে জয় দিয়ে নয়, বড় পরাজয়ের হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে। দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন্সের বিপক্ষে ৮৮ রানের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৫ ওভারে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন্স। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ২১০ রান সংগ্রহ করে দলটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রান তোলার গতি ধরে রেখে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহ গড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন জেপি ডুমিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৪৯ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাঁর সঙ্গে অন্যদের কার্যকর অবদানে দুই শতাধিক রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওয়েন পারনেল মাত্র ১৩ বলে ২২ রান করেন। মর্ন ভন উইক ১৯ বলে যোগ করেন ৩০ রান। কলিন ইনগ্রামও দলের রান বাড়াতে অবদান রাখেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও কামরুল ইসলাম রাব্বি একটি করে উইকেট নেন। তবে উইকেট পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তাঁরা। ফলে বড় লক্ষ্য তাড়া করার চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হয় বাংলাদেশকে।

সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। ২১১ রানের লক্ষ্য পেরোতে হতো মাত্র ১১ দশমিক ৫ ওভারে। অর্থাৎ, শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যাটারদের সামনে। কিন্তু সেই চাপ সামলাতে পারেনি দলটি।

ইনিংসের শুরুতেই মাত্র চার রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলীয় স্কোর ১০ রান হওয়ার আগেই আরও একটি উইকেট পড়ে। এমন বিপর্যয়ে রান তোলার পরিকল্পনা যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি ব্যাটারদের ওপর চাপও বেড়ে যায়। দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি ২৬ বলে ৩৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসে দলের রান কিছুটা এগোলেও প্রয়োজনীয় গতিতে লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব হয়নি। অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে ধারাবাহিক সহযোগিতা না পাওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেনি।

শেষদিকে আরাফাত সানি ৩০ বলে ৩১ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই যে ক্ষতি হয়েছিল, তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১২২ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এতে ৮৮ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন্স।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের হতাশাজনক চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। বাকি চার ম্যাচে পরাজয়ের কারণে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র দুই পয়েন্টে। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থানে থেকে আসর শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। ২১১ রানের লক্ষ্য এমনিতেই কঠিন ছিল, তার ওপর প্রথম কয়েক ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ কমে যায়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রেখে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলেন।

সব মিলিয়ে, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে। পাঁচ ম্যাচে চার পরাজয় এবং শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার দলটির জন্য হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। একমাত্র জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করায় সামনের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।